রাসেল আহমেদ, প্যারিস, ফ্রান্স প্রতিনিধি: ১৪ মার্চ প্যারিসের প্লেস দে লা বাস্তিল চত্বরে Solidarités Asie France (SAF)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৭ম বারের মতো বাণিজ্য মেলা ‘ঈদ বাজার ২০২৬’।
মেলা বাঙালির জীবনে অত্যন্ত পরিচিত একটি সামাজিক উৎসব, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের স্মৃতিময় শৈশব। মেলা মানেই মিলনক্ষেত্র। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো মেলা। প্রবাসের ব্যস্ত ও একঘেয়ে জীবনে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে এ ধরনের আয়োজন।
প্রবাস জীবনের নিরানন্দ ও ব্যস্ততার মাঝে ক্ষণিকের জন্য আনন্দের পরশ ছড়াতে Solidarités Asie France (SAF) প্রতিবছরের মতো ঈদের আগমুহূর্তে ‘ঈদ বাজার’ নামে এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও প্যারিস শহরের প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ৭ম বারের মতো এই বাণিজ্য মেলা।
মেলার শুরুতেই সাফের প্রেসিডেন্ট নয়ন এন কে স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু করেন।
সকাল দশটা নাগাদ মেলার অংশগ্রহণকারীদের আগমন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পদচারণায় প্লেস দে লা বাস্তিল চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মুহূর্তেই স্থানটি আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে রূপ নেয়।
মেলায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল রকমারি ও আকর্ষণীয় আয়োজন। বড়দের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা এবং শিশুদের জন্য ছিল নানা ধরনের বিশেষ আয়োজন।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে, যা সাময়িকভাবে হলেও প্রবাসীদের মনে দেশের মাটিতে ঈদের আগমুহূর্তের অনুভূতি এনে দেয়। অনেকেই যেন ফিরে গিয়েছিলেন শৈশব ও স্বদেশের স্মৃতিময় জগতে।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা তাদের নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তাদের মধ্যে একজন দর্শনার্থী সেলিম ভূঁইয়া জানান, তিনি প্রায় আট বছর ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। প্রথমবারের মতো এই মেলায় অংশ নিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, প্রবাসে আপনজনদের থেকে দূরে থাকায় প্রায়ই একাকীত্ব ও বিষণ্নতায় ভুগতে হয়। তবে এত বাঙালির মিলনমেলায় অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে অংশ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
আরেক দর্শনার্থী আয়মা নূর, যিনি একজন শিক্ষার্থী এবং পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করেন, বলেন—পড়াশোনা ও কাজের ব্যস্ততায় সময় কাটে। তাই এমন ব্যতিক্রমধর্মী মেলায় এসে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।
মেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা। বিদেশি দর্শনার্থীরা দেশীয় পোশাক ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মেলায় প্রায় ৫০টিরও বেশি স্টল ছিল। এসব স্টলে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ঘরোয়া হাতে তৈরি নানা খাবার যেমন আচার, পিঠা ও ভর্তার সমাহার ছিল।
আয়োজকদের মতে, প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় নতুনত্ব ও ভিন্ন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণে সেই লক্ষ্য অনেকটাই সফল হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
শেষে সন্ধ্যা আটটা নাগাদ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম শেষ হয়।
আয়োজকরা এ সফল আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য সকল স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান।