প্রবাস মেলা ডেস্ক: সংগীতশিল্পী তামান্না হক এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্টেজ মৌসুম শুরু হওয়ায় তামান্নার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে অনেক। তামান্না ভার্সেটাইল একজন সঙ্গীতশিল্পী। তার কন্ঠে ফোক গান বেশি শ্রুতিমধুর। যে কারণে তামান্না’র আলাদা কদর আছে শ্রোতা দর্শকের কাছে। দেশীয় সঙ্গীতাঙ্গনের তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় গানের পাখি তামান্না হক। একাধারে স্টেজ শো, চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক, টেলিভিশন শো – সব মাধ্যমেই কন্ঠের জাদুতে মুগ্ধ করছেন সুন্দরী – সুরেলা এই গায়িকা।
চলতি সময়ে তামান্না হক গায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও তার কিন্তু অভিনেত্রী হওয়ার কথা ছিল। একটা সময় তিনি অভিনেত্রী হওয়ার লক্ষ্যে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন। এই প্রসঙ্গে বলেন, ছোটবেলায় আমি থিয়েটার করতাম। অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ম্যামের কাছে অভিনয় শিখেছি এবং বেশকিছু মঞ্চ নাটকে অভিনয় করি। কিছু টিভি নাটকেও অভিনয় করি তখন। বনফুলের গান, পৌষ ফাগুনের পালাসহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। আমি অভিনয় করলেও তখন মাঝে মধ্যেই গুন গুন করে গান গাইতাম।
অভিনয়ের পাশাপশি তামান্না তখন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে নাচেরও প্রশিক্ষণ। কিন্তু পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে এক পর্যায়ে অভিনয় ও নাচ তাকে ছাড়তে হয়। পড়াশোনার পাঠ একটু গুছিয়ে এনেই সঙ্গীতের সুর-তালের বিশাল সমুদ্রে ডুব দেন তামান্না। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে উস্তাদ নাসির চৌধুরীর কাছে হাতেখড়ি নিয়ে গান শিখতে শুরু করি। উনি ছাড়াও উস্তাদ আবু সাঈদ বিশ্বাস কাছে তালিম নিয়ে ২০১৭ সালে আবারও উস্তাদ নাসির চৌধুরীর কাছে সঙ্গীত চর্চার শুরু। এরপর উস্তাদজীর মাধ্যমেই ২০১৭ সালে ১১ আগস্ট প্রথমবার সংগীতশিল্পী হিসেবে স্টেজ পারফরমেন্স শুরু করি।
তামান্না জানান, স্টেজ শো শুরুর পরের বছরেই তার গাওয়া প্রথম অডিও অ্যালবাম রিলিজ হয় সঙ্গীতার ব্যানার থেকে। অ্যালবামের নাম ছিল ‘আমি লিখলাম চিঠি’। গীতিকার ও সুরকার ছিলেন কলকাতার ইকবাল খান, সংগীত পরিচালক ছিলেন খায়েম আহমেদ। তামান্না’র গাওয়া গানের উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম দোটানা মন, আমি বন্ধু তোমার আছি, এই বুকে থাকো, মায়া লাগে, ধাক ধাক করে, মিষ্টি পান, উল্লেখযোগ্য। এই পর্যন্ত ৫০টি মৌলিক গান গেয়েছেন বলে তামান্না জানান। এরপর তিনি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক শুরু করেন।
চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক করা নিয়ে তামান্না বলেন, আমার প্রথম প্লেব্যাক এস জি প্রোডাকশন নির্মিত মাহবুবা শাহারীন মিতু প্রযোজিত ‘ঈসাখাঁ’ ছবিতে। এটির পরিচালক ছিলেন ডায়েল রহমান। তার গানে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। ছবিতে নায়ক ছিলেন ডি এ তায়েব। এছাড়াও দেহ তরী, নরপিশাচ, দোস্ত দুশমন, কিশোরী নামের ছবিগুলোতে প্লেব্যাক করেছি। একজন পেশাদার গায়িকা হিসেবে আমার চেষ্টা ও আগ্রহ রয়েছে নিয়মিত প্লেব্যাক করার।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী তামান্না দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেজ শো’সহ দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে স্টেজ প্রোগ্রাম করেছেন। প্রতিবছর অনেকবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা রাজ্যে তিনি স্টেজ শো করেন। সেখানে তামান্না হক দারুন জনপ্রিয় একজন গায়িকা। ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালিতে স্টেজ শো’ করে প্রবাসী বাঙালীদের গানে গানে মাতিয়েছেন তামান্না।
তামান্না হক আরও জানান, একজন গায়িকা হিসেবে আমি সব ধরনের গান করতে পছন্দ করি। তবে ফোক গান আমাকে বেশি টানে। আমি পছন্দও করি ফোক গান গাইতে। তবে সব বয়সী শ্রোতার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় এমন গান করতে চাই। তাছাড়া দেশ-বিদেশের স্টেজ শোগুলোতে ফোক গান গেয়ে দর্শক-শ্রোতাদের ভালোলাগাটা সরাসরি উপভোগ করতে পারি। একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিদেশের স্টেজ শো’তে আমি ভবিষ্যতে আমার দেশের বাংলা গান গেয়ে বাংলাদেশর মানচিত্র বিশ্ব দরবারে সুউচ্চে তুলে ধরতে চাই।
গানের জগতে পথচলায় তামান্না বিশেষভাবে তার বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবার উৎসাহেই আজ আমি তামান্না হয়েছি। বর্তমানে আমার স্বামী সার্বক্ষণিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। গীতিকার, সুরকার ও মিউজিক ডিরেক্টর মান্নান মোহাম্মদ, জেমিনি মিউজিক ওয়াল্ডের প্রেসিডেন্ট বেলাল আহমেদ, পপি মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান রাসেল খান, আপন সুরের চেয়ারম্যান মনির হোসেন মনির, এলেম মিউজিকের চেয়ারম্যান এইচ আর লিটনের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিএ তায়েবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তামান্না। সর্বোপরি দর্শকশ্রোতাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।