তকীউদ্দিন মুহাম্মদ আকরাম: গ্লোবাল ল থিঙ্কার্স সোসাইটি পরিবেশ পুণরুদ্ধারের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হতে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য আর্থ (জি আর্থ)’ নামক ২০৩০ সাল অবধি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা নিশ্চিতকরণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বিশ্বের শিক্ষার্থী ও বহু পেশাজীবিদের নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অগ্রসর হচ্ছে জিএলটিএস। সেই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ২০২৩, ৫টি মহাদেশের ১০টি দেশ (ভারত, নেপাল, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়, আইভরিকোস্ট, হাংগিরি, গাম্বিয়া, ক্যমেরুন, অস্ট্রেলিয়া) ও বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৯ জেলায় (ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও বরগুনা) সবুজ বিশ্ব গঠনের প্রতিশ্রুতি এবং সংহতি প্রকাশ করে। বাংলাদেশ থেকে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ স্কাউট, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইপসা, আমরা সবাই ফাউন্ডেশন, সম্প্রতি ও সৌহার্দ, সিএসডাব্লিউপিডি সহ আরো ১৬ টি সংগঠন।

আমেরিকা মহাদেশ থেকে আবনার প্লাটা, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৯৮/০০ নিউ এক্ট, ইউরোপ থেকে মাইন্ডফুলেয়েন্সার, আফ্রিকা থেকে গার্লস রাইজিং মালাউই, সেইভ লাইফ গাম্বিয়া এবং এভিএসডি, এশিয়া থেকে লুম্বিনি ওয়ার্ল্ড পিস নেপাল, ইন্ডিয়া থেকে মাউন্ড গাইড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং পিস অফ পাকিস্তান অংশগ্রহণ করেছিল আরো ১০টি সংগঠন।
‘সবুজ যুদ্ধ, সবুজে মুক্তি, একসাথে জলবায়ু পরিবর্তন রুখি’ এই স্লোগানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবুজ বিশ্ব গড়ার দাবি তুলে ধরে জিএলটিএস ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

১৫ই এপ্রিল ২০২৩ ওয়ার্ড বুক অফ রেকর্ড লন্ডন, তাদের এশিয়া এডিশনের ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তালিকায় জিএলটিএসের ‘সবুজ মানব প্রাচীর’ অন্তর্ভুক্ত করে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি সন্তষ শুকলা জিএলটিএসকে অভিনন্দন জানায়।
রেকর্ডটি হলো:
‘২৬ মার্চ ২০২৩ বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগের ৯ টি জেলায় এবং বিশ্বের ৫ টি মহাদেশের ১১ টি দেশে ২৬ মিনিটের জন্য ১৮ টি সবুজ মানব প্রাচীর গঠন’। এতে অংশগ্রহণ করে ২৬০০ এর অধিক মানুষ।
২০ই মে ২০২৩, শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গ্লোবাল ল থিংকার্স সোসাইটি। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও জিএলটিএসের প্রধান উপদেষ্টা ডেইভ ডাউলন্ড।
তিনি বলেন, আগামী বিশ্ব গড়ায় এই উদ্যোগ এবং সফলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। গাছ লাগানোর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, আমরা সবাই ফাউন্ডেশনের অপু আজাদ। তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে সবুজ পৃথিবী গড়ার কার্যক্রমে একসাথে এগিয়ে যাব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে ছিলেন, জিএলটিএসের সভাপতি রাওমান স্মিতা। তিনি সকলকে গাছ লাগিয়ে সবুজ বিপ্লবে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
সবুজ মানব প্রাচীর তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল সবুজ বিশ্ব তৈরিতে বিশ্ববাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এমতাবস্থায় কার্যক্রমটি বিশ্ব রেকর্ডের অন্তর্ভুক্তি পাওয়ায় জিএলটিএস তাদের মূল লক্ষ্য ১ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা কার্যক্রমে আরে একধাপ এগিয়ে গেল।

বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং পরিবেশকে পুণর্জীবিত করার একমাত্র উপায় হলো বৃক্ষরোপণ করা। এবং বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সুদূর ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট আরো ঘনীভূত হবে। তারই মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতায় জিএলটিএস বাংলাদেশে ১০ লক্ষ এবং সারা পৃথিবীর যে দেশগুলো জলবায়ুজনিত হুমকিতে রয়েছে সেখানে ১ কোটি বৃক্ষ রোপণের কার্যক্রম চালাতে চায়। কার্যত বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই গাছের সংখ্যা খুবই কম কিন্তু জিএলটিএস মূলত এই কার্যক্রম শুরু মাধ্যমে সকল মানুষের মধ্যে পরিবেশ প্রেম এবং গাছের অপরিহার্যতা তুলে ধরতে চায়।
জিএলটিএস মনে করে মহান স্বাধীনতা দিবসের এই অর্জন বাংলাদেশের সকল মানুষ এমনকি বিশ্বের ১১টি দেশের যারা যুক্ত হয়েছিল সকলের। তাই আবারও জিএলটিএস আহ্বান জানাতে চায় সকল সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে ১০ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।