প্রবাস মেলা ডেস্ক: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে একটি বিশেষ সফটওয়্যার। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত সমন্বয় সভার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ একে অন্যের সঙ্গে সঠিকভাবে সমন্বয় করছে না। সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে, জটিলতা বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সমন্বয় সভা হবে। সভায় নতুন, চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে তৈরি করা হচ্ছে একটি সফটওয়্যার, যেখানে প্রতিটি প্রকল্পের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর তা ব্যবহার করতে পারবে।
ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বহুল প্রতীক্ষিত বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প শিগগিরই চালু হচ্ছে জানিয়ে শেখ মইনউদ্দিন বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সরকার না থাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। ফলে এখনই প্রকল্পটি চালুর উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, যানজট নিরসনে হাইকোর্ট মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সংকেতব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যাবে। এ সংকেতব্যবস্থা একটি বড় পরিকল্পনার অংশ। এরপর ধাপে ধাপে জেব্রা ক্রসিং, সড়কের মার্কিং, পথচারী পারাপারসহ নানা উপাদান যুক্ত করা হবে। এমনকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হবে। এতে নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো এবং সংকেত অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থাপনা ঢাকার অন্যান্য সড়কেও চালু করা হবে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে শেখ মইনউদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে। এই নীতিমালা কার্যকর হলে এসব যানবাহন নির্দিষ্ট রুটে চলবে, সব রাস্তায় নয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিশেষ টিম গঠন করা হচ্ছে, যারা দেশের সব প্রকল্পের খরচ বিশ্লেষণ করবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় প্রকল্প অনুমোদনের পর দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি লাইন সরানোর কাজ এখনো হয়নি। ফলে প্রকল্প আটকে যায়। এ সমস্যা এড়াতে এখন থেকে প্রকল্প অনুমোদনের আগে জমি অধিগ্রহণ এবং সেবা সংস্থার লাইন সরানোর বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন এক ছাতার নিচে আনার বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া হবে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সভায় বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ডে পরিবর্তন এনেছে। হাওর এলাকায় পাঁচ হাজার কোটি টাকায় একটি উড়ালসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু পরিবেশগত প্রভাব ও প্রকল্পের লাভজনকতা বিবেচনায় তা বাতিল করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান, বিআরটিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনুপম সাহা, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার। সভা পরিচালনা করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক। উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ফর রেল অ্যান্ড রোড (আরআরআর)-এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।