জাহাঙ্গীর আলম সিকদর, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: ৬ জুন ২০২১, রবিবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ইলফোরড স্থানীয় একটি হলরুম ক্যাফে রোমা’য় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষণিকের জীবন দশায় রাষ্ট্রীয় কর্মময় জীবনের সফলতা ও আপামর জনসাধারণ জিয়াউর রহমানকে এতো বেশি ভালবাসার কারণ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠান ইউকে জিয়া পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাসুদ এর সভাপতিত্বে এবং ইউকে জিয়া পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক প্রফেসর ইকবাল খাঁন ও যুগ্ম আহবায়ক আহসান উদ্দিন মানিকের উপস্থাপনায় কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদান করেন কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এমএ জলিল খাঁন ও জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কবি- কাওছার মাহমুদ, প্রফেসর ইকবাল, সুমন খান, ওমর ফারুক সহ অনেকেই। অনুষ্ঠিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, জিয়া মানে কোটি বাঙ্গালীর ভালবাসা ও অনুভূতি, জিয়া মানেই লাল-সবুজ পতাকা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সামরিক বাহিনীর সদস্যের গুলিতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিরাট ক্ষতি সহ মুসলিম বিশ্বের নিদারুণ ক্ষতি হয়েছিল। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সত্যিকার একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে দেশের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একান্তভাবে কাজ করেছিলেন। তিনি স্বনির্ভরতা অর্জন ও জাতীয় পুনর্গঠন কাজ শুরু করছিলেন তাই জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশা ও চেতনার সঞ্চার করে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তন সাধন এবং নূনতম খাদ্য চাহিদার ৭০ শতাংশ দেশেই উৎপাদন করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশ থেকে সর্ব প্রথম মধ্যপ্রাচ্য, সৌদিআরব, আরব আমিরত, কুয়েত, কাতার, বাহারাইন, জাপান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

মহান নেতা মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সারা বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা ব্যথিত ও শোকসন্তপ্ত হয়েছিল এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের কাছে শোকবার্তা প্রেরণ করেছিল (মোরতানিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জামাইকা, আইএলও, মধ্য আফিকা, বিশ্ব শান্তি পরিষদ, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রেডক্রস, কিউবা, উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়া, ফান্স, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, বুলগেরিয়া, জাপান, পাকিস্তান, ভারত, সৌদিআরব, চীন, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, রাশিয়া, স্পেন, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, মিশর সহ অনেক দেশ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তারা আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের অবকাঠামো বৃদ্ধির জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এই ১৯ দফার লক্ষ্যই ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্য এবং সত্যিকার একজন দেশ প্রেমিক হিসাবে দেশের মানুষের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একান্তভাবে কাজ করেছিলেন তিনি।
এছাড়াও স্মৃতিচারণ করে আলোচনা অংশগ্রহণ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সাবেক জিএস, এবং খুলনা বিভাগ বিএনপির আহ্বায়ক, মনজুর হাসান প্লটু, মঈন, মো: ইব্রাহিম, ওমর ফারুক, রফিকুল ইসলাম, শাহিদুল ইসলাম, মোল্লা ফিরুজ আকন্দ, মো: জাকির হোসাইন, মো: আলম, মাসুদুর রহমান, মাহামুদুর রশিদ, সুমন খান, রানা হামিদ, বি এম ফারুক, সাকাওয়াত হোসেন, খাইরুল কবির, দিদার আলম, আনোয়ার মেম্বার সহ আরো অনেকে। সবশেষে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শামিম আহম্মেদ।
অনুষ্ঠানে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবার এর সকল সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা সহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে বিএনপি পরিবারের যে সমস্ত নেতাকর্মীরা মৃত্যুবরণ করেছে সকলের জন্য দোয়া করে মোনাজাত শেষে রাতের খাওয়া দাওয়া পর্ব ও সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের সমাপ্তি হয়।