ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: লেবাননে অবস্থানরত অনিয়মিত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও পাসপোর্টের তথ্যগত জটিলতায় তা হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এমআরপি (MRP) থেকে ই-পাসপোর্টে (E-Passport) রূপান্তরের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্মনিবন্ধন ও পুরোনো পাসপোর্টের তথ্যের অমিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী।
এদিকে লেবানন সরকার ও বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত আবেদন ও প্রক্রিয়া সম্পন্নের সময়সীমা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
লেবানন সরকারের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈধ হওয়ার আশায় প্রতিদিন বৈরুত বাংলাদেশ দূতাবাসে ভিড় করছেন শত শত বাংলাদেশি। ভোর থেকেই দূতাবাসের সামনে ও প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি এবং পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল থাকায় অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসীরা।
ভুক্তভোগীদের অনেকে জানান, তারা ১০ থেকে ১৫ বছর আগে এনালগ বা হাতে লেখা পাসপোর্টের মাধ্যমে লেবাননে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাদের এমআরপি পাসপোর্ট করা হয়। কিন্তু পুরোনো পাসপোর্টে থাকা নাম, জন্মতারিখ কিংবা বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে করা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল রয়েছে। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের আবেদনে ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের সময় এসব অসঙ্গতির কারণে আবেদন আটকে যাচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী প্রবাসী বলেন, “আমরা এক দশকেরও বেশি সময় আগে যে তথ্য দিয়ে দেশ থেকে এসেছিলাম, তার সঙ্গে বর্তমান এনআইডির তথ্যের বড় ধরনের অমিল রয়েছে। কোথাও বাবার নাম ভুল, আবার কোথাও মায়ের নামের তথ্যেও ভুল রয়েছে। ই-পাসপোর্টের জন্য এনআইডির তথ্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় আমরা পাসপোর্ট সংশোধন বা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে পারছি না।”
তিনি বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, পুরোনো এনালগ পাসপোর্ট বা এমআরপির তথ্য যাচাই করে ই-পাসপোর্ট করার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হোক।”
প্রবাসীদের ভোগান্তি ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুতের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর বৈধ জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা বাধ্যতামূলক।
তিনি জানান, যাদের আগে এমআরপি পাসপোর্ট করা হয়েছে, তারা পুরোনো বা ম্যানুয়াল তথ্যের ভিত্তিতে নতুন করে ই-পাসপোর্ট করতে পারবেন না। ই-পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় এনআইডি বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের মিল থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া দূতাবাসের পক্ষে নিয়ম শিথিল করার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
প্রবাসীরা বলছেন, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্টের তথ্যগত জটিলতা সমাধান না হলে অনেকেই বৈধ হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।