মো: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, রিয়াদ, সৌদি আরব প্রতিনিধি: ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ রিয়াদে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। সৌদি আরবে আসার পূর্বে কাজ ও কোম্পানি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশে আসার পূর্বে চাকুরীর ধরণ, বেতন ভাতা, সৌদি কোম্পানি, নিয়োগকর্তা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আসার পরামর্শ দেন, তাহলে বিদেশে এসে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া সৌদি আরবে আসার পূর্বে দক্ষতা অর্জন করে আসার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।
রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ও সেবা প্রার্থী কয়েকশত অভিবাসী যোগ দেন। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৮ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী কর্মরত রয়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ অভিবাসী কর্মী বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব এসেছে। চলতি বছরে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সৌদি আরব হতে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরিত হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট রেমিট্যান্সের ১৯%।
এ সময় রাষ্ট্রদূত উপস্থিত প্রবাসীদের কাছে জানতে চান তাঁরা বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠান কিনা? জবাবে প্রবাসীরা বলেন, তাঁরা বৈধ পথেই দেশে টাকা প্রেরণ করেন। রাষ্ট্রদূত এসময় সকল প্রবাসীদের বৈধ পথে দেশে টাকা প্রেরণের অনুরোধ করেন ও সরকার ঘোষিত সুবিধাদি গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে তা আপনার পরিবারই পাবে কিন্তু দেশে মার্কিন ডলারের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে ও দেশের অর্থনীতির উপকার হবে।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যূলেট সীমিত লোকবল দিয়ে সৌদিতে বসবাসরত প্রায় ২৮ লাখ অভিবাসীকে আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত দূতাবাসের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন কারণে মৃত্যুবরণ করা প্রবাসীদের ৯৬৯টি মৃতদেহ দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সময়ে মৃত প্রবাসী কর্মীদের বকেয়া বেতন-ভাতা, সার্ভিস বেনিফিট ও মৃত্যুজণিত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১ কোটি সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, চলতি বছর দূতাবাসের সেইফ হাউজে ৫৭৯ জন আশ্রয়প্রার্থী নারী গৃহকর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। আইনগত সেবার মাধ্যমে শ্রম আদালতে মামলা করে তাদের বকেয়া পাওনা বাবদ মোট প্রায় ২ লাখ সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৪২৮ জন নারী গৃহকর্মীকে সেইফ হাউজ হতে এবং সেইফ হাউজের বাইরে থেকে ৭৩৬জন নারী গৃহকর্মীকে বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ৯,১০৭ জন বাংলাদেশী কর্মীকে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো: রেজায়ে রাব্বী। আলোচনা শেষে অভিবাসীদের জন্য ও দেশ, জাতির সার্বিক মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়।