হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন চাইনিজ কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভূঁইয়া। সভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এটিএম হেলালুর রহমান। মুনাজাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ এবং আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
সভায় প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে দোয়াও করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দুল হকের মায়ের মৃত্যু এবং নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লার বড় বোনের মৃত্যুতে আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন জহিরুল ইসলাম মোল্লা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, শামসুল ইসলাম মঞ্জু, জহিরুল ইসলাম মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খায়রুল বাশার, নাসিম আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, এটিএম হেলালুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী জাহাঙ্গীর, মোস্তাক আহমেদ, রুহুল আমিনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বর্ণনাতীত। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভূঁইয়া বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তাঁর নেতৃত্বে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলেছিল। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন সময় এসেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে এবং তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেবে।
সভা শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বিএনপি সমর্থকরা।