জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: করোনা মহামারির মধ্যে যুক্তরাজ্যে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা তরুণ-তরুণীরাই চাকরি হারিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের দরিদ্র পরিবারের তরুণদের চাকরি হারানোর হার, সেখানকার ধনী পরিবার থেকে আসা তরুণদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
করোনা মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হচ্ছে সারা পৃথিবীতেই। পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোতে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতি। এমন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। করোনাকালে ব্যাপকহারে চাকরিহারা হয়েছেন সেখানকার তরুণ কর্মজীবীরা। দরিদ্র পরিবার থেকে আসা তরুণ প্রজন্মই যার প্রধান শিকার।
সম্প্রতি, করোনাকালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের ওপর রেজোল্যুশন ফাউন্ডেশন ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারি শুরুর পরবর্তী এক বছরে ব্রিটেনের অসচ্ছ্ল পরিবার থেকে আসা তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, ধনী পরিবার থেকে আসা তরুণদের মধ্যে এ হার মাত্র ১৬ শতাংশ।
এছাড়াও, করোনাকালে দরিদ্র পরিবার থেকে আসা তরুণদের মধ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। মহামারির আগে নিজেদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ৬৪ শতাংশ তরুণ সন্তুষ্টির কথা জানালেও, মহামারি শুরুর এক বছর পর সেই হার নেমে এসেছে ৫৪ শতাংশে।
অপরদিকে, শুনতে অবাক লাগলেও, মহামারি সত্ত্বেও ধনী পরিবারের তরুণদের মধ্যে অর্থনৈতিক সন্তুষ্টির হার বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ধনী পরিবারের তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তা ৭৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের গবেষক অ্যান্ড্রু আইলেস বলেন, মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব তরুণদের ওপর মারাত্মকভাবে পড়ছে। বিশেষ করে যারা দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে মূলত তারাই সংকটের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এর ফলে ব্রিটেনের সামাজিক সমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তরুণদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, করোনাকালে দরিদ্র পরিবারগুলোর কর্মজীবী মা-বাবার চাকরি হারানোর হার ধনী পরিবারগুলোর কর্মজীবী মা-বাবার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এসব দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জীবনমান ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারের ওপর।