প্রবাস মেলা ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন রোধে দেশটির ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে অভিযান বাড়িয়েছে অভিবাসন কর্মকর্তারা। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানান, ২০১২ সালে দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মের সময়ে চালু করা ‘চরম পরিস্থিতিতে’ ধর্মীয় স্থাপনায় নজরদারি বৃদ্ধি আইনের আলোকে ২০১৯ সাল থেকে মসজিদ, মন্দির, গির্জায় অভিযান চারগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে থাকা রোধ করতে আইনটি চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এদিকে এমন অভিযানে অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে যেয়ে বিমানে উঠিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই ধরনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকে। ধর্মীয় স্থাপনায় পরিদর্শনের ক্ষেত্রে উপপরিচালক পর্যায়ে অনুমোদন দেয়। এ ছাড়া অভিবাসনমন্ত্রীকে অবশ্যই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করতে হয়।
এদিকে এমন অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন অভিবাসীদের কল্যাণে গঠন করা জয়েন্ট কাউন্সিলের উপদেষ্টা মেরি অ্যাটকিনসন। তিনি বলেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের ধর্মীয় স্থাপনায় কোনোভাবেই যাওয়া উচিত না। যে আইনের আলোকে অভিযান চালানো হয় অবিলম্বে সেটি বাতিল করতে হবে। ধর্মীয় স্থাপনাগুলো বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিকতার অপরিহার্য স্থান। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই স্থানগুলোর পবিত্রতা লঙ্ঘন করছে। আমরা তাদের আচরণে মর্মাহত।
এদিকে হোম অফিসের একজন মুখপাত্র দাবি করে বলেছেন, আমরা সাধারণত অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য পেতে এবং যারা যুক্তরাজ্য ছেড়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি ফিরে যেতে চায় তাদের সহায়তা দিতে অভিযান পরিচালনাকারীরা। অভিযানের আগে অবশ্যই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের অনুমতি নেয়া হয়। তাদের সঙ্গে নিয়েই অভিযান পরিচালনা করেন বলে জানান তিনি।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, অভিবাসন কর্মকর্তারা ৩ বছরে ৪০০টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতি বছর অভিযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে ১৬৭টি ধর্মীয় স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখানে ২০২১ সালে ওই সংখ্যা থেকে ৪৬টির বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইতোমধ্যেই ১৩৭টি স্থাপনায় অভিযান করা হয়েছে।