আশরাফুল আলম মাসুদ, রিপোর্টার, প্রবাস মেলা: দেশের ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম দৈনিক যায়যায়দিন হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। নানা চড়াই-উতরাই ও কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে পত্রিকাটি গণমানুষের মুখপত্রে পরিণত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকেই যায়যায়দিন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তায় শতভাগ স্বনির্ভরতা অর্জন তথা বাংলাদেশের গঠনমূলক পরিবর্তনের সরব সঙ্গী হয়ে রয়েছে। তাই এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার সকাল থেকে যায়যায়দিন কার্যালয়ে দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের ঢল নামে। তাদের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয় যায়যায়দিন পরিবার। ১৭ বছরে পর্দাপণ উপলক্ষে যায়যায়দিনের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক, এইচআরসি গ্রুপের কর্ণধার সাঈদ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কারো কাছে নতি স্বীকার নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজস্ব ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধারণ করে যায়যায়দিন এগিয়ে যাবে সামনের পথে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারও প্রতি বৈরিতা নয়, সবার সংবাদকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে যায়যায়দিনের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উৎসবমুখর আয়োজনে সাঁঝবেলায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, এ বছর সতেরোতে পা দিয়েছে যায়যায়দিন। আর এক বছর পরই অষ্টাদশী হবে। এক সময় প্রেীঢ়ত্বে পা দেবে। তারপর প্রৌঢ়ভাবে জীবন কাটাবে। অর্থাৎ পরিপক্বতা আসবে। কিন্তু শেষ হবেনা। মানুষের জীবনে জন্মের পর মৃত্যু আছে। কিন্তু খবরের কাগজ জন্মের পর চলতেই থাকে। বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়াকে অনলাইন ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে, যা চ্যালেঞ্জিং। যায়যায়দিন যে চেহারা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল, আজ তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নিউজসহ সবক্ষেত্রে এর গুণগত উৎকর্ষতা বেড়েছে। দেশের প্রথম সারির এই সংবাদমাধ্যম দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যায়যায়দিনের আরও সমৃদ্ধি কামনা করি। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, যায়যায়দিন মানুষের কথা বলে নিজের অবস্থান বজায় রেখে সামনের পথে এগিয়ে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে যায়যায়দিন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেবলে আশা করছি। পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

এ সময় অন্যানের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন যায়যায়দিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিফ রাইস চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ। দেশের প্রথম সারির এ দৈনিকের ১৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের কার্যালয় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতা বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশা’র মানুষের পদচারণায় গোটা প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল দিনভর। এ সময় গুণীজনরা বিশাল আকৃতির একাধিক কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উৎসব আয়োজনের সূচনা করেন। দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে অতিথি আপ্যায়ন। তবে যায়যায়দিন জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের আপ্যায়ন চলে সকাল থেকেই। এর ফাঁকে ফাঁকে চলে নাচ-গান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যোগ দিতে আসা যায়যায়দিন জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিসহ আগত সব অতিথি সাংস্কৃতিক এ অনুষ্ঠানে দিনভর মেতে থাকেন।
দুপুরের দিকে অনুষ্ঠানে আসেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডাক্তার মো. শহিদুল্লাহ সিকন্দার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, নির্বাহী সদস্য লাকী আক্তার।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপক ও প্রবাস মেলা পত্রিকার উপদেষ্টা মামুন ইমতিয়াজ। তাকে সাদরে গ্রহণ করেন এইচআরসি শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান এবং যায়যায়দিনের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক সাঈদ হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত করে তুলতে দুপুরে যায়যায়দিন কার্যালয়ে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন।
আসেন জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম ইমন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সেলের সমন্বয়ক আতাউর রহমান সরকার, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী নাছির আহাম্মেদ রতন ও ফার্মাসিস্ট সিকদার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, সংবাদপত্র মানুষের চোখ ও কান। পত্রিকা পড়ে আমরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সামাজিকসহ সার্বিক অবস্থা নির্ণয় করি। যায়যায়দিন নিয়ন্ত্রিত থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সংবাদ পরিবশেন করে যাবে এমনই প্রত্যাশা করি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান যায়যায়দিন নিজ ঐতিহ্য রক্ষা করে দেশ ও মানুষের কথা বলে যাবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিচ্ছে যায়যায়দিন পত্রিকাটি। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীনদের প্রতিনিধিত্ব প্রথা বজায় রাখছে। এই প্রথা ধরে রাখলে পাঠকের হৃদয়ে জুড়ে থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বরাবরের মতো দেশ ও মানুষের পক্ষে যায়যায়দিন সংবাদ পরিবেশন করবে এমনটি আশা করি। বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে যায়যায়দিন কথা বলে যাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রীতি সম্মেলনে যোগ দিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার নাতিদীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। তিনি যায়যায়দিনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আগামীতে আরও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করবে দৈনিকটি। তিনি যায়যায়দিন পরিবারের প্রতি তার অকুণ্ঠ ভালোবাসা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ মামুনের পক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মনজুর রহমান ও উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান শুভেচ্ছা জানান। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের পক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। অনুষ্ঠানে লেখকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক তারাপদ আচার্য, মোহাম্মদ শামসুল কবির, জহির আহমেদ, জাহিদ রহমান, আহমেদ মতিউর রহমান, মীর আবদুল আলীম, কবি ও উপস্থাপক রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, রোকেয়া ইসলাম, সরকার মাসুদ, আনোয়ার কামাল, স ম শামসুল আলম, বদরুল হায়দার, নূর কামরুন নাহার, শারমিন সুলতানা রীনা, নজরুল ইসলাম নঈম।
ব্যাডমিন্টন তারকা এনায়েত উল্লাহ যায়যায়দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমী।
এদিকে প্রীতি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকেননি তারকারাও। শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গণের তারকাদের মধ্যে ছিলেন- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহিন সুমন, চিত্রপরিচালক চন্দন চৌধুরী, মিজানুর রহমান মিজান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, নিরব হোসেইন, বাপ্পী চৌধুরী, আবির চৌধুরী, মডেল-অভিনেতা আব্দুন নূর সজল, চিত্রনায়িকা তানিন সুবাহ, অভিনেতা মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, আজিজুল হাকিম, অভিনেত্রী জিনাত শানু স্বাগতা, লারা লোটাস, মূকাভিনেতা নিথর মাহবুব, কণ্ঠশিল্পী- খুরশীদ আলম, সামিনা চৌধুরী, শুভ্র দেব, মনির খান, নোলক বাবু, রোজিনা আক্তার, কাজল আরিফ, আদনান এবং অন্তর শোবিজের কো-অর্ডিনেটর কৃষাণ ভুইয়া।