আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধিঃ ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে, নানান রকম কাহিনীর জন্ম দিয়েছে রোম বাংলাদেশ দূতাবাস , অবশেষে নতুন রাষ্ট্রদূতের যোগদান ঘটবে শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০। পেশাদার কূটনীতিক মো. শামীম আহসানকে ঐদিন দুপুরে অভিনন্দন জানানো হবে ইতালির রোম লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বিমানবন্দরে।
রোম দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে যে, বিমানবন্দরে শুধুমাত্র দূতাবাস থেকে কয়েকজন গিয়ে নূতন রাষ্ট্রদূত কে অভ্যর্থনা জানাবেন । এখানে সাংবাদিকসহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে বিমানবন্দরে যাওয়ার অনুমতি দেবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে যে, তারাও কোনো সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছেনা । যেহেতু করোনার প্রাদুর্ভাবে ইতালি অনেক সতর্কতার সহিত মানুষকে চলাফেরার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রবাসীদের গ্যাদারিংএর কারণে যদি এয়ারপোর্টের স্বাস্থ্যসম্মত যেই বিধি নিষেধ করোনার জন্য, তা যদি ব্যাঘাত ঘটে, সম্পূর্ণ দায়িত্ব রোম দূতাবাসকে নিতে হবে। সে কারণে এয়ারপোর্টে কোন রকম গেদারিং করা যাবে না রোম দূতাবাস এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে ।
প্রায় ১২ বছরের ব্যবধানে রোমে মো. শামীম আহসান তাঁর পুরনো কর্মস্থলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। তিনি সর্বশেষ নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে অতি সম্প্রতি বিদায় নেয়া আবদুস সোবহান সিকদারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তুখোড় মেধাবী মো. শামীম আহসান । তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে সুনামের সহিত বিদায় নিয়ে নতুন স্থানে যোগ দিয়েছেন।
ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করেন নতুন রাষ্ট্রদূত অতীতের যত কালিমা আছে রোম দূতাবাসকে নিয়ে, তা কাটিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কাজ করবেন এবং দূতাবাসের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রবাসীদেরকে সহযোগিতা করবেন। প্রত্যেক প্রবাসীদের কাছে বাংলাদেশ দূতাবাস হলো তাদের নিজস্ব দেশের প্রতিচ্ছবি । তাই ছোট্ট এই দেশে প্রবেশের জন্য দ্বার উন্মুক্ত থাকবে বলে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেন ।

মো. শামীম আহসান ইতালির বাংলাদেশ কমিউনিটিতে আগে থেকেই অভাবনীয় জনপ্রিয় ও বিশেষ আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০০৮ রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসে কাউন্সিলর/মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রায় সবকটি প্রভিন্সিয়াতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে । ইতালির বাংলাদেশি অধ্যুষিত প্রতিটি শহরে নগরে বন্দরে মো. শামীম আহসানের সুনাম অক্ষুন্ন আছে এখনও । তাই ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেক প্রত্যাশা নুতন রাষ্ট্রদূতের কাছে। একজন রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের অভিভাবক সেটাই সবাই দেখতে চায়।
মো. শামীম আহসান ২০০৮ থেকে ২০১১ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ছিলেন। নাইজেরিয়াতে হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেয়ার আগে ২০১৪ থেকে ২০১৮ নিউইয়র্কে কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কমিউনিটি তাঁকে স্মরণ করে শ্রদ্ধাভরে।
ইতালির প্রতিটি সিটির মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অধিকাংশ শহরে স্থানীয় কমিউনিটিতে মো. শামীম আহসানের অভাব এখনো সেখানকার মানুষ মনে করে।
খুব ক্লিন ইমেজের ডিপ্লোমেট মো. শামীম আহসান তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কুয়েত ও কাতারের বাংলাদেশ মিশনে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। প্রখর এই মেধাবী মানুষটি তাঁর শিক্ষাজীবনে কোনদিন ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হননি। যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ফার্স্ট স্ট্যান্ড করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিকাল সায়েন্সে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় ক্ষেত্রেই ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হবার গৌরবের ধারাবাহিকতায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশী নাগরিক ও সংগঠনের অসামান্য অবদান ছিলো তাঁদের নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক প্রকাশনা ছাড়াও রাষ্ট্রীয় বহু গুরুত্বপূর্ণ পাবলিকেশনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন মো. শামীম আহসান।
মো. শামীম আহসান দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা এবং সততার সাথে। তুখোড় এই কূটনীতিকের লেখা দু’টি বই ‘কূটনীতিকোষ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সমস্যা ও সম্ভাবনা’। বিদেশ বিভুঁইয়ে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করা তাঁর আজীবনের ধ্যান জ্ঞান সাধনা ছিল, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাদামাটা মানুষ, তার সহধর্মিণী, জীবন চলার সহযাত্রী, স্ত্রী প্যান্ডোরা চৌধুরি ছাড়াও তার জীবনে একটি কন্যা সন্তান আছে ।
ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা করছেন, নতুন রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান তাঁর কোয়ালিটি সম্পন্ন এবং ডায়নামিক ক্যাপাসিটি কাজে লাগিয়ে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসকে সযত্নে ঢেলে সাজাবেন । সেই সাথে দূতাবাস যাতে সত্যিকার অর্থেই প্রবাসীদের ন্যায্য সার্ভিস যথাসময়ে সঠিকভাবে দিতে পারে, হাজারো প্রবাসীর চরম ভোগান্তির যাতে শেষ হয়, তা তিনি নিশ্চিত করবেন। ইতালি ও বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে, ইতালির সাথে আরো বেশি কূটনৈতিক তৎপরতায় সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনবেন। ইতালির সাথে কুটনৈতিক তৎপরতখর সুদিন ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে, ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নবদিগন্তের সূচনা হবে- সময়ের প্রয়োজনে এটাই প্রত্যাশা করে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।