প্রবাস মেলা ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বেড়েছে। ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন কোস্টগার্ড। দ্বিতীয়বারের মতো তেলবাহী জাহাজ জব্দের এই ঘটনা ওয়াশিংটন–কারাকাস উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অবশ্য ওই জাহাজটি অবৈধ তেল পরিবহনে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা থেকে যাত্রা করা একটি তেল ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। চলতি মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভেনেজুয়েলার উপকূলে তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন এক সময় এই পদক্ষেপ নেয়া হলো যখন ভেনেজুয়েলায় যাওয়া ও সেখান থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর ‘অবরোধ’ আরোপ করা হবে বলে গত মঙ্গলবার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে সর্বশেষ জাহাজ জব্দের ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ভেনেজুয়েলা। তবে এর আগে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের তেলসম্পদ লুটের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছিল। সংবাদমাধ্যম বলছে, মার্কিন কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। চলতি মাসের শুরুতে যে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছিল, সেটির মতোই এবারও একটি বিশেষ কৌশলগত দল আন্তর্জাতিক পানিসীমায় জাহাজটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের অধীনে মার্কিন কোস্টগার্ড পরিচালিত হয়। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযানের ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, ২০ ডিসেম্বর ভোররাতে কোস্টগার্ড ও যুদ্ধ দপ্তরের সহায়তায় ভেনেজুয়েলায় সর্বশেষ নোঙর করা একটি তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে।
তিনি প্রায় সাত মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে ‘সেঞ্চুরিজ’ নামের জাহাজটির ডেকে মার্কিন হেলিকপ্টার নামতে দেখা যায়। নোম বলেন, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলের অবৈধ পরিবহন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে যাবে। তার দাবি, এই অঞ্চলে মাদক–সন্ত্রাসে অর্থ জোগাতে এই তেল ব্যবহার করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং থামাব।’
পানামার পতাকাবাহী ‘সেঞ্চুরিজ’ জাহাজটি গত পাঁচ বছরে গ্রিস ও লাইবেরিয়ার পতাকাও ব্যবহার করেছে বলে বিবিসি ভেরিফাইয়ের দেখা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের তালিকায় নেই।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার মাদক পাচারকারী বলে দাবি করা নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব নৌযানে মাদক বহনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনও প্রকাশ্য প্রমাণ দেয়নি। এ নিয়ে কংগ্রেসে মার্কিন সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামের একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ করেছে। যদিও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট তা অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদুরো ও এই গোষ্ঠী ‘চুরি করা’ তেল ব্যবহার করে নিজেদের অর্থায়ন, মাদক–সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে যুক্ত।
এদিকে দ্বিতীয় জাহাজ জব্দের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে লেখেন, অবৈধ অপরাধচক্র ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র নিরবচ্ছিন্নভাবে সামুদ্রিক অভিযান চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, ‘সহিংসতা, মাদক ও বিশৃঙ্খলা পশ্চিম গোলার্ধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত ভেনেজুয়েলাতেই রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই ভেনেজুয়েলা সরকারের ব্যয়ের বড় অংশই আসে তেল রপ্তানির আয় থেকে।