রানা সাত্তার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
দিন যত বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই মহানগর ও জেলাতে পর্যাপ্ত করোনা আইসোলেশন সেন্টার না থাকায় মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এইরকম একটি অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ভূমি মন্ত্রীর নির্দেশে আনোয়ারা লাবিবা কনভেনশন এখন করোনা আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
আনোয়ারায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন সেন্টার ( অস্থায়ী হাসপাতাল) করার লক্ষ্যে লাবিবা কনভেনশন হল উৎসর্গ করলেন বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা হাসানুর রশিদ রিপন।
৪ জুণ, ২০২০ বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদ চৌধুরী, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ, হাসানুর রশিদ রিপনের প্রতিনিধি সমাজ কর্মী মহিউদ্দিন ।
সমাজ সেবক হাসানুর রশিদ রিপন জানান, মহান আল্লাহতায়ালাকে সন্তোষ্টির লক্ষ্যে নবী করিম (সঃ) এর আদর্শকে ধারণ ও লালন করে করোনার এই দুর্যোগকালে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে মানবিক বিবেচনায় আমার মালিকানাধীন পিএবি সড়কের শোলকাটায় অবস্থিত লাবিবা কনভেনশন হলকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল) করার জন্য আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদের প্রস্তাবে আমি সম্মতি জ্ঞাপন করি। ২০১৫ সালে আনোয়ারাবাসীর জন্য স্বল্প মূল্যে ১৬ হাজার স্কয়ার ফিটের আধুনিক লাবিবা কনভেনশন হলটি চালু করি। বর্তমানে ৭ হাজার স্কয়ার ফিটের এক তলা হল রুমে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বেড বসানোর সুবিধা রয়েছে। দেশের করোনা পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসতে পেরে আমি শান্তিবোধ করতেছি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ জানান, করোনার পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসা ও হাসপাতালের সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপির নির্দেশনায় লাবিবা কনভেনশন হলটিকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল) করার প্রস্তাব দিলে হাসানুর রশিদ তাৎক্ষণিক ভাবে রাজি হয়ে হাসপাতাল করার অনুমতি দেন। ভূমি মন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের এই হাসপাতালে বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়াসহ সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। সেই সাথে আনোয়ারা বাসীর জন্য তাহার এই অবদান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, এই আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের বিনামূল্যে থাকা খাওয়াসহ সব ধরণের সহযোগিতা পুরাপুরি ফ্রি।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, লাবিবা কনভেনশন হলটি কে নীতিগত ভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এই হাসাপাতালে ১৫ থেকে ২০ টি সিট স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেয়া যায় সেই ভাবে গড়ে তোলা হবে।