প্রবাস মেলা ডেস্ক: শাহরুখ অভিনীত বলিউডের আলোচিত-সমালোচিত ‘পাঠান’ সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশীয় হলগুলোতে মুক্তির বিষয়ে দেশের একটি প্রযোজনা সংস্থা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
২৪ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার ছবিটি মুক্তির বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক চলছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই বৈঠকের পরেই জানা যাবে ছবিটি বাংলাদেশে আদৌ মুক্তি দেওয়া হবে কি না। তবে ছবিটি দেশে মুক্তির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।
নির্মাতা এস এস হক অলিক জানান, বাংলাদেশে সাফটা চুক্তি অনুযায়ী উপমহাদেশের ছবি মুক্তি দিতে পারে। তবে আগে এটা দেখতে হবে, আমাদের দেশীয় হলগুলো প্রদর্শনের জন্য এখন প্রস্তুত কি না। কারণ, আমাদের হলগুলোতে পেনড্রাইভ দিয়ে ছবি চালায়। আর বলিউডের সিনেমাগুলো বর্তমানে সার্ভারে চলে। তাই আমি মনে করি, আগে দেশীয় হলগুলো আধুনিক হোক, তারপরে উপমহাদেশের ছবিগুলো মুক্তি পাক। এই মুহূর্তে দেশীয় ছবিগুলোর দিকে হল মালিকদের নজর দিলে আশা করছি ভালো কিছু হবে।
ছবিটি মুক্তির বিষয়ে পরিচালক সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় নির্মাতা কাজী হায়াৎ জানান, বর্তমানে আমাদের দেশীয় ছবিগুলো সারাবিশ্বে মুক্তি পাচ্ছে। যদি আইন অ
নুযায়ী ‘পাঠান’ মুক্তি দেওয়া যায় তাহলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। উপমহাদেশের ছবিগুলো দেশে মুক্তি পেতে পারে। আর এই প্রক্রিয়াটা আমার কাছে খুব স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী জানান, আমি অভিনয় জগতে আসার পর সিনিয়রদের কাছ থেকে শুনেছি যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান বাংলাদেশে পাকিস্তানি ও হিন্দি ছবিগুলো প্রদর্শনে নিষিদ্ধ করেছেন। সে অনুযায়ী তার কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো এই দেশে কোনোভাবে উপমহাদেশের ছবি মুক্তির অনুমতি দিতে পারেন না বলেই আমি মনে করছি।
অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম জানান, নতুন করে চলতি বছরে দেশে ভালো ভালো ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আগে দেশীয় ছবিগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে উপমহাদেশের ভালো সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছি আমি। তবে অবশ্যই কোনো অশ্লীল ছবি মুক্তি দেওয়া হোক, সেটা আমি কখনই চাই না। কারণ, এতে আমরা আবারও আমাদের দর্শক হারাবো।
প্রসঙ্গত, সাফটা চুক্তির নীতিমালা অনুসারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দেশে ‘পাঠান’ ছবিটি মুক্তির অনুমতি পেলে ভারতে মুক্তির দুই দিন পরেই দেশীয় হলগুলোতে দেখানো হবে।