প্রবাস মেলা ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় জন্মজয়ন্তী উৎসব শেষ হয়েছে শনিবার (১০ মে)। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, মঞ্চনাটক এবং গ্রামীণ মেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ণাঢ্য এই আয়োজন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনে (৯ মে) প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার। সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এবং কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি।
‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান। উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে।
উৎসব উপলক্ষে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সেজেছিল বর্ণিল রূপে—ব্যানার, ফেস্টুন ও আলপনায় হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। উন্মুক্ত মঞ্চে পরিবেশিত হয় নৃত্য ও রবীন্দ্রসংগীত। পাশাপাশি আমবাগানে জমে ওঠে গ্রামীণ মেলা।
দর্শনার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসব বেশি প্রাণবন্ত ও দর্শকসমৃদ্ধ। কেউ কেউ কবির স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানকে আত্মিকভাবে অনুভব করার কথাও বলেন।
নৃত্যশিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তিনি রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। কুমারখালী শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক কে এম আলম টমে রবীন্দ্র জন্মদিনের পাশাপাশি মৃত্যুদিনও জাতীয়ভাবে পালনের দাবি জানান এবং দর্শনার্থীদের জন্য গবেষণাগার ও থিয়েটার নির্মাণের আহ্বান জানান।
কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, আবৃত্তি, সংগীত ও নাটকের মাধ্যমে মধ্যরাতে উৎসবের পর্দা নামে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৮৬১ সালের ২৫ বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৯১ সাল থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহে বসেই তিনি রচনা করেন বহু অমর সাহিত্যকর্ম।