অসীম বিকাশ বড়ুয়া, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেঃ বর্ণিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলা বর্ষবরণ ১৪২৯ উদযাপন করা হয়েছে। কোরিয়াতে বসন্ত চলাকালীন সময়ে ‘মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বয়ে যাক, প্রকৃতি ও প্রত্যয়ে এসো বৈশাখ’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ১৭ই এপ্রিল রবিবার ২০২২ এর রৌদ্রজ্জ্বল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সিউলের প্রাণকেন্দ্রে পূজা পরিষদ, দক্ষিণ কোরিয়ার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালিত হয়।

সম্প্রতি কোভিড পরবর্তী শিথিলতায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই আয়োজনে আমন্ত্রন জানানো হয়।সকালে মাঙ্গলিক পূজানুষ্ঠান সম্পাদনের পরে বর্ষবরণের তুমুল আয়োজন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহবায়ক কমিটির সদস্য সুফল দত্ত, পার্থ কুমার দে, মৃদুল সোম, চন্দ্রিকা পাল ও মিঠুন সরকার প্রমূখ। তাঁরা সাজ-সজ্জা, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা ধরনের দেশীয় খাদ্য সামগ্রীর আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত ছিলো সর্বসাধারণের জন্যে।এছাড়াও ছোট শিশুদের জন্যে ছিলো ছোট ছোট উপহার সামগ্রী।

সংস্কৃতিজন আশুতোষ অধিকারীর সঞ্চালনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বর্নাঢ্য উপস্থিতি শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করে রাখে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মানিত অতিথি ড. কেশব কুমার অধিকারী। দেশীয় পোষাকে সুসজ্জিত বাংলাদেশের একটি অনুপম প্রতিবিম্ব ফুটে উঠে অনুষ্ঠানস্থলে।
আয়োজকবৃন্দের আশা, আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা তাঁরা বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবেন। এ সময় পূজা পরিষদ, দক্ষিণ কোরিয়া পরবর্তীতে আরও বৃহৎ ভাবে উৎসব করার পরিকল্পনার কথা জানান। অতিথিবৃন্দের সাথে সাম্প্রতিক প্রবাসী জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা শেষে এবং নিয়মমাফিক অংশগ্রহণের জন্যে অতিথি বৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে পরিষদের আহবায়ক ডঃ হাসি রাণী বাড়ৈ আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার সার্বজনীন উৎসব বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবার মঙ্গল কামনা করেন এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে তিনি অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।