লন্ডন, যুক্তরাজ্য: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী মেমোরিয়াল ফাউন্ন্ডেশন ইউকে’র উদ্যোগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী শনিবার পুর্ব লন্ডনের মাক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক কে এম আবুতাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল কাদিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে বঙ্গবীর ওসমানী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ নাহাশ পাশা, বাংলা পোস্টের সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক অধ্যাপক কবি ফরিদ আহমদ রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠনের উপদেষ্টা এম এ মান্নান ও কমিউনিট নেতা সৈয়দ নুরুল ইসলাম দুলু।
সভায় বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানীর বনাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, সুরমার সাবেক সম্পাদক কবি আহমদ ময়েজ, জিএসসি সাউথ ইস্ট রিজিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইছবাহ উদ্দিন,ব্যারিষ্টার মাসুদ চৌধুরী,ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক আফসার উদ্দিন,সাংবাদিক সালেহ আহমদ,সুরমার বার্তা সম্পাদক কাইউম আব্দুল্লা, সংগঠনের ট্রেজারার সৈয়দ সুহেল আহমদ, সাংবাদিক শাহ সেলিম আহমদ, জয়েন্ট সেক্রেটারী আবুল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ফারুক মিয়া, সুফি সুহেল আহমদ, আব্দুল মালিক কুটি,মোঃ আব্দুল গনি, কবি শামসুল ইসলাম, গোলাম কাদির চৌধুরী শামিম প্রমুখ।
সভায় কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও কলামিস্ট শিহাবুজ্জামান কামাল ও সাংবাদিক নাজমুল হোসাইন।
সভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এসের সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল, প্রেসক্লাবের এ্সিসটেন্ট সেক্রেটারী মতিউর রহমান চৌধুরী, জনমতের বার্তা সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, প্রেসক্লাব নেতা এম এ কাইউম. আমিমুল এহসান তানিম, তৌহিদ আহমদ প্রমুখ।
সভায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ।
সভায় সকল বক্তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ওসমানীর অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধান অতিথি মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম খান বলেন, জেনারেল ওসমানী প্রধান সেনাপতি ছিলেন না। তিনি তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন মুক্তিযুদ্ধের সোনালী ইতিহাস থেকে ওসমানীকে কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা।
সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, অনেকেই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেন কিন্তু শেষ পযর্ন্ত তা ঠিকে থাকেনা। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে তত দিন ওসমানীকে মূল্যায়ন করা হবে। বাকশালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও পদত্যাগ করে প্রথমে তিনি অনেকের বিরাগভাজন ও বাধাগ্রস্ত হন।
মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান বলেন, ওসমানী ছিলেন আদর্শের মুর্ত প্রতিক। সত্যবাদিতা, সময়নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা ও খোদাভীরুতা ছিল তাব বড় গুণ।
সকল বক্তারা জেনারেল ওসমানীর জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন, ওসমানীর নামে মিলিটারী একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ওসমানীর বিরত্বগাথা কাহিনী পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্তকরন ও যথাযথ মূল্যায়নের অহবান জানান।