সৈয়দ এম. হোসেন বাবু, লস এঞ্জেল্স, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটি ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ক্যালিফোর্নিয়া শাখা আয়োজিত হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০২ জন্ম বার্ষিকী নর্থউডের সাইটোলজি অডিটোরিয়মে কেক কেটে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী এপলো হাফিজুর রহমান, আদনান খান, সুলতানা রহমান আন্না, জাহাঙ্গীর আলম এবং কাবেরী রহমান কে নিয়ে মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ এম হোসেন বাবু’র সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি মো: জিল্লুর রহমান নিরুর পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাউলা বাবুল এবং সামসুর নাহার এনির সঞ্চালনায় পবিত্র কোরান থেকে তেলয়াত করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফাহিন সুমন এবং আমন্ত্রিত অতিথি দের মধ্য থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক টি জাহান কাজল, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগ এর কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, লিটল বাংলাদেশ লস এন্জেলেস বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা মুজিব সিদ্দিকী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এন্জেলেস এর নির্বাচন কমিশনার ভাষা সৈনিক ডা. মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, অরেন্জ কাউন্টি গ্রীষ্ম বরণ উৎসব এর কর্নধার মো: রফিকুল হক রাজু, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এন্জেলেস এর সভাপতি মো: রেজাউল করিম রেজা, অরেন্জ কাউন্টি বাংলাদেশ কমিউনিটি এর সুধীজন মো: এমদাদুল হক মান্নু প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ এম হোসেন বাবু বলেন- বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসে একমাত্র মহানায়ক এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের লাল-সবুজের পতাকার নির্মাতা তিনি। ১৭ মার্চ ১৯২০ সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ‘খোকা’ নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা।
১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেল আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এ দেশের মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে যাকে কেউ কিনতে পারেনি এমন কি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাবার ভয় দেখিয়েও বাঙালির অধিকারের দাবী আদায়ের পথ থেকে তাকে সরাতে পারেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের আত্মত্যাগই জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে জাতীর পিতা শেখ মুজিব অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি মো: জিল্লুর রহমান নিরু বলেন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত ও স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে মুক্তির দিশারী হয়ে থাকবেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোতে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল জাতির পিতার ডাকে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। মহান এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধু আজীবন বাঙালি জাতির স্বাধীনতা, স্বাবলম্বিতা, স্বাধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন।