হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: আমেরিকার ফ্লোরিডায় বাংলাদেশে অনেকটা প্রবাদ বাক্যের মতোই প্রচলিত “পিঠা ছাড়া শীত জমেই না”। এই আপত:বাক্যটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের মনোভূমে এমনভাবে প্রথিত আছে যে সুদূর প্রবাসেও তারা তা ভুলতে পারেনি। তাইতো তুষার ভেজা শীতের সকালে শীতের মজা লুটতে প্রবাসীরা মেতে ওঠে জমজমাট পিঠা উৎসবে।

ডিজনি ওয়ার্ল্ড খ্যাত কিসিমির লেকফ্রন্ট পার্কে ২৫ জানুয়ারি ২০২০ বাংলাদেশ সোসাইটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা উদ্যোগে “পিঠা উৎসব” এর আয়োজন করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর পিঠার স্বাদ আস্বাদন এর লক্ষ্যেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। পিঠা উৎসবে নকশী করা পিঠা, বাহারি ডিজাইনের পিঠার মৌ মৌ সুগন্ধিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনের মনপ্রাণ জুড়িয়ে গিয়েছিল ।

পিঠা উৎসবে বাংলাদেশ কমিউনিটি সহ বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন অংশগ্রহণ করে এবং পিঠার স্বাদ আস্বাদন করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। পিঠা উৎসব এর আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি সামসুদ তোহা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অনেক পুরনো সংগঠন এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমরা বরাবরই চেষ্টা করি এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজক মাত্র কিন্তু এই অনুষ্ঠানের প্রশংসার দাবিদার আপনারা যারা সারারাত কষ্ট করে পিঠা বানিয়ে নিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক বাবু বলেন, প্রবাসে আমাদের লোকজন ও নান্দনিক সংস্কৃতির বহি:প্রকাশের লক্ষ্যেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মনোভূমে লোকজ সংস্কৃতি জাগরুক রাখার লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রয়াস।সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অত্যন্ত পরিচিত মুখ আবিদ আমির বলেন, এতো সুন্দর আয়োজন এতো লোকের সমাগম আমি সত্যিই অভিভূত। আমি বাংলাদেশের সোসাইটির সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এতো সুন্দর আয়োজনের জন্য। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি শেলি আহ্সান বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি বরাবরই চেষ্টা করে আসছে এই কমিউনিটির বাংলা ভাষা-ভাষী যারা আছেন তাদের কাছে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।

পিঠা প্রতিযোগিদির জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের মধ্যে ছিল আইফোন ১১। এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় রাকিবুল আলম এর সৌজন্যে, আপল ওয়াচ এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় হাসান মাহমুদের সৌজন্যে, ট্যাবলেট এই পুরস্কারটি দেওয়া হয় আহ্সান কনসাল্টিং সৌজন্যে। র্যাফেল ড্রয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হলো ৫০” টিভি, ৩২”টিভি, ২৪”টিভি এই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় সদরুল আলম, মোহাম্মদ হোসাইন এবং গোলাম মোহাম্মদ এর সৌজন্যে। পিঠা উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সামসুদ তোহা, ইসতিয়াক বাবু, রুমেল, কনক, ময়নুল, শেলি আহ্সান, জসিম উদ্দিন, করিমুজ্জামান, নবনি, ইউনুস, ওয়ারেস, আপেল, সেলিম, জাহাঙ্গির, শিপু, জুয়েল প্রমুখ।