প্রবাস মেলা ডেস্ক: ইউরোপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্যারিসের কেম্পানিল হোটেলের বল রুমে ‘পজিটিভ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ছিল ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন সংগঠনের নেতৃবন্দ।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা শরীফ আল মমিনের সভাপতিত্বে এবং সভাপতি ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের (বিসিএটিএফ) সভাপতি ফখরুল আকম সেলিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাতার আলী সুমন, পর্তুগালের লিসবনের সাবেক কাউন্সিলর রানা তাসলিম উদ্দিন, মির্জা গ্রপের প্রেসিডেন্ট মির্জা মাজহারুল, বাফ এর সভাপতি সালেহ আহমদ চৌধুরী, কুমিল্লা সমিতির উপদেষ্ঠা মোহাম্মাদ আলী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি আশরাফ ইসলাম, ক্রাব এর সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, ইতালি থেকে আগত ব্যবসায়ী দম্পতি ডেজি আফরোজ, আতিকুর রহমান রাসেলসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ মোল্লাহ, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব সুয়েদ, সহ সভাপতি আঁখি সীমা কাওসার, অর্থ সম্পাদক মাহবুব হোসাইন, সদস্য গোলাম রাব্বানী রাজা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ইতিবৃত্ত, পজিটিভ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভুমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও আফ্রিকাসহ ১৭টি দেশ থেকে আগত আমন্ত্রিত অথিতিরা গুরত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। প্রবাসী সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কত ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় অতিথিদের আলোচনায় তা ওঠে আসে। তারা বলেন, সাংবাদিকতা কত চ্যালেঞ্জ, সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রবাসী সাংবাদিকরা প্রবাসে থাকা প্রায় দুই কোটির উপরে বাংলাদেশীদের সুখ-দুঃখের কথা, সাফল্য-ব্যর্থতার কথা, সামাজিক অর্থনৈতিকসহ সকল বিষয় এই সাংবাদিকরা সারা বিশ্বের দরবারে নিজের কলম এবং ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে ধরেন। তারা আরও বলেন, খুব কমসংখ্যক টেলিভিশন চ্যানেল সাংবাদিকদের পরিশ্রমের মূল্য প্রদান করেন। আর বেশিরভাগ সাংবাদিকরা শখের বসে সাংবাদিকতা পেশাকে ভালোবেসে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন সাংবাদিক যখন সংবাদ সংগ্রহ করেন, এটাই কিন্তু শেষ নয়। এই সংবাদটিকে এডিট করে একেবারে সাজিয়ে গুছিয়ে স্ক্রিপ্ট লিখে টেলিভিশন বা পত্রিকাকে পাঠাতে হয়। প্রবাস জীবনের কঠিন ব্যস্ততার মাঝেও সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন করতে কত সময় লাগে তা দূর থেকে অনেকেরই অজানা থেকে যায়। তারপরও প্রবাসে দিন দিন সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে যেমন সাংবাদিকদের মধ্যে নানান রকম ভেদাভেদ আছে, মনোমালিন্য আছে, শত্রু-বন্ধু আছে, ঠিক প্রবাসেও একই রকম সাংবাদিক সংগঠন করতে গিয়ে, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সম্পর্কের মধ্যে নানান রকম মতভেদ-মনোমালিন্য এসে যায়। তারপরও এগিয়ে চলছে প্রবাসে থাকা এই সাংবাদিকরা। অথচ এই প্রবাসী সাংবাদিকরা বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কাছে তথা বাংলাদেশে জাতীয় প্রেসক্লাবে কতটুকু মর্যাদা পান? সেটাও উঠে আসে এই বক্তব্যের মাধ্যমে।
এসময় বক্তারা সাংবাদিকদের ভূয়সি প্রশংসা করে বলেন, এই সংগঠনের প্রত্যেকটি সদস্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নির্ভিক সৈনিক হিসাবে ইউরোপে বাংলা গণমাধ্যমের অতন্দ্র প্রহরী।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান এবং সামাজিক সেবামূলক খাতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় এনআরবি সিআইপি তৌফিকুজ্জমান পলাশ ও শেখ আলামিন, বিবিসি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জানা মার্টিন, সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসাইন, মোজাম্মেল আলম দিপু, প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্যোক্তা আবু ইমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ এম আজাদ, সংগঠক ও উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান খানকে ‘কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৫জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।
এবারের অনুষ্ঠানে ২০২৩ সালে ইউরোপ সেরা সাংবাদিকের স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এমডি রিয়াজ হোসেন (নিউজ ২৪ ইতালি প্রতিনিধি), ফাতেমা রহমান রুমা (ডিবিসি জার্মানী প্রতিনিধি), মোহাম্মদ আসলামুজ্জামান (আরটিভি ইতালি প্রতিনিধি)।