রাসেল আহমেদ, প্যারিস, ফ্রান্স প্রতিনিধি: ফ্রান্সে বসবাসরত কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি শনিবার প্যারিসের পার্শ্ববর্তী ওভারভিলিয়ে একটি অভিজাত হলে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কুলাউড়া সরকারি কলেজ (ফ্রান্স)”–এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনমেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর। শিক্ষাজীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্বের টান ও আবেগঘন মুহূর্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলাটি যেন প্যারিসের বুকে কুলাউড়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসেরই এক প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
সংগীতশিল্পী সুমা দাস, মোঃ লুৎফর রহমান বাবু ও আহমেদ জুনেদ ফারহানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ভায়োলিনে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আরশী চৌধুরী। পরে কলেজের প্রয়াত শিক্ষকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে কলেজের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নয়নে যাঁরা নিরলস অবদান রেখেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন লুলু আহমেদ, মোঃ মিরজান আলী, আতিকুর রহমান, অজয় দাস, হাসান সিরাজ, কিশোর দে ও সিপার আহমদ। দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য দেন হেপী দে, আবুল কালাম মামুন, পারভেজ রশিদ খান, আব্দুর রহমান, মনধীর কুমার বোস, সামাদ খান রাজু, হাফিজুর রহমান, এম আশরাফুর রহমান, লুৎফর রহমান শাহান শহিক ও জুয়েল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানার্থে উত্তরীয় ও ব্যাজ পরিয়ে দেন ফরাসি নাগরিক ও আইটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি Sébastien Caririque Rai Shibaji।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ‘জলের গান’ খ্যাত রাহুল আনন্দ ও সুমা দাস গানে গানে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। রাহুল আনন্দের সুরেলা কণ্ঠ ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের করতালিতে মুখর করে তোলে পুরো হল। এছাড়া জিএম শরিফুল ইসলাম ও তাঁর দল ‘সৃজনশীল নৃত্যাঙ্গন’ বিশেষ নৃত্য পরিবেশন করেন। শিশু শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনাও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সামাজিক, রাজনৈতিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে থেকেও নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা ও ঐক্যের যে দৃষ্টান্ত কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্থাপন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনে তাঁরা অভিভূত ও আনন্দিত বলে মন্তব্য করেন।