মার্ক রায়, তুলুজ, ফ্রান্স প্রতিনিধি: বাবা মরে যাওয়ার পর থেকেই কাকা ‘আদম গমেজ’ যেন বাবার জায়গাটা দখল করে নিয়েছিল। আমাদের বেঁচে থাকার সামগ্রিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা তাকে কেন্দ্র করেই চলছিল। আমাকে বিদেশ পাঠানো এবং ফ্রান্সে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার পিছনের গল্পের বড় অংশীদার আমার কাকা । তার নিজের কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও ফোনে নাতনীদের, আমার এবং আমার পরিবারের খবর নিতে কখনোই ভুলতো না তিনি। এখনও ফোনটার ক্রিং ক্রিং শব্দ শুনলেই মনে হয়, পিতৃস্নেহে কাকা ই যেন বলবে- কেমন আছিস তোরা ?
ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহ অন্যান্য কার্যক্রমগুলো একটু গুছিয়ে নিয়ে যখন ভাবছি দেশে যাব, বাপতুল্য একমাত্র কাকার একটু সেবা করবো, ঠিক তখনই কাকার অসময়ে হঠাৎ চলে যাওয়া, কোন কিছু মানতে পারছে না শোকাগ্রস্ত এ পরিবার। এটা প্রবাসী জীবনে পঙ্কজ গোমেজের বাস্তবচিত্র।
উল্লেখ্য যে প্রতিষ্ঠিত তরুণ ব্যবসায়ী পঙ্কজ গমেজ বাংলাদেশী প্রবাসী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, তুলুজ ফ্রান্সের ‘প্রচার সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকা সত্বেও সুযোগ হয়নি তার কাকার শেষকৃত্য অংশগ্রহণ করার। দেওয়া হয়নি তার কবরে শেষ মাটির ছোঁয়া। এমনকি বাস্তবে শেষবারের মতো তার মুখ দেখার সুযোগ হল না। স্বজনদের ভিডিও কলে সবকিছু দেখে সান্তনা নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য যে আদম গমেজ ১২ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার রাতের প্রথম প্রহরে আনুমানিক ১:৩০ (বাংলাদেশের সময়) প্রভূতে নিদ্রিত হয়েছে। তার বন্ধুবান্ধব পরিজন এবং এলাকার কোন লোকই তার এই অসময়ে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছে না।
কাকা কে উদ্দেশ্য করেই প্রবাসে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যরা ফ্রান্সের তুলুজ শহরে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে।
১৪ অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ২:৩০ মিনিটে পঙ্কজ গমেজের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট -ROTHANG PASS-এ আরম্ভকৃত স্মরণসভায়, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানাতে উপস্থিত হয়েছিল প্রবাসী তুলুজ প্রবাসী খ্রিস্ট ভক্তরা।
বাংলাদেশী প্রবাসী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, তুলুজ- ফ্রান্সের সম্মানিত সভাপতি যোসেফ ডি কস্তা তার স্মৃতিচারণে বলেন, আদম গমেজ ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। এলাকার মানুষের সাহায্যে সে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে আমি ভীষণ মর্মাহত।
বিশেষ প্রার্থনার পর দেশীয় রীতি অনুসারে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত সকলের সাথে দুপুরের আহারে নিরামিষ ভোজ করেন ।