মার্ক রায়, তুলুজ, ফ্রান্স প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের ছুটি এলেই যেন ইউরোপে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের মনে এক আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। সময়ের ক্লান্তিকে দূর করতে এদেশে বসবাসরত মানুষগুলো সমুদ্রের নোনা জলে নিজের শরীরকে ভিজিয়ে আনা, বিভিন্ন অবকাশকেন্দ্রে গিয়ে বিনোদন খোঁজা, নানাবিধ অনুষ্ঠান, উৎসব, মেলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মে জড়িয়ে সবাই নিজেকে নতুন ভাবে ফিরে পেতে চায়। ফ্রান্সের তুলুজ শহরে বসবাসরত বাঙালিরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।
বাংলাদেশী প্রবাসী খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, তুলুজ- ফ্রান্স পরিবারের অন্যতম ছোট দুই নবাগত – Jude Jevis COSTA, Andre Norvin COSTA দ্বয়ের বাপ্তিস্ম (দীক্ষাস্নান) পরবর্তী আনন্দ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুলুজে আজ বাঙ্গালীদের মিলনমেলা বসেছিল।
পৃথিবীতে বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মের কাথলিক সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে কোন শিশু জন্মগ্রহণ করলে সময়ান্তে তাকে নিকটবর্তী গির্জায় গিয়ে, ফাদার এর মাধ্যমে বাপ্তিস্ম প্রদান করাতে হয়। এটি নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের বিষয়। আর এ আনন্দকে সকলের মাঝে ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে শিশুদের মা যথাক্রমে জনি ও সুমি কস্তা এবং সনি ও নীলা কস্তা Saint-Sernin চার্চের হলরুমে এক আনন্দ ঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সকল ধর্মের মানুষ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল শিশু দুইটি কে আশীর্বাদ ও দোয়া করার জন্য।
প্রণতি ক্রুশের প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়। কেক কাটা এবং দুপুরের আহারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি প্রবাসী খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন, তুলুস- ফ্রান্সের সম্মানিত সভাপতি, এবং অল ইউরোপিয়ান খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য , শিশু দুটির দাদু যোসেফ ডি কস্তা, মাদ্রিদ থেকে আগত Andre Norvin COSTA এর দাদু ডমিনিক রঞ্জিত রিবেরু সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, শিশুটিকে আশীর্বাদ জানাতে এবং উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানাতে আরো উপস্থিত হয়েছিল তুলুজ শহরের সর্ববৃহৎ চার্চ Saint Sernin এর মাননীয় ফাদার VINCENT GALLOIS. পরিবার দুইটির পক্ষ থেকে সনি কস্তা ও সুমি কস্তা উপস্থিত সকল কে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং নিজেদের মাঝে সম্পর্ক বৃদ্ধি করার জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান আরো বেশি বেশি করা উচিত।