রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান প্রতিনিধি: বাংলাদেশ দূতাবাস আম্মান বাংলাদেশের ৫২তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২০ মার্চ ২০২৩ সন্ধ্যায় গ্র্যান্ড হায়াত আম্মানের গ্র্যান্ড বলরুমে একটি অভ্যর্থনার (রিসেপশন) আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জর্ডানের আইন প্রতিমন্ত্রী ড. ন্যান্সি নামরুকা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা হতে আগত সাংস্কৃতিক দল, ‘সৃষ্টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান অতিথিদের স্বাগত জানান। বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ন্যান্সি নামরুকা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতির পর থেকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য জর্ডান গর্বিত। তিনি বাণিজ্য, পর্যটন, জনশক্তি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা এবং জর্ডানে ৬৫,০০০ এর অধিক বাংলাদেশী নাগরিকের উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি আরব ইস্যুতে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং বাংলাদেশের অব্যাহত নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জর্ডান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ২০২২ সালে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা জর্ডানের বিভিন্ন খাতে অবদান রেখে চলেছে, যা পারস্পরিক উন্নয়ন অংশীদারিত্বের উদাহরণ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও জর্ডান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে যেমন বিনিয়োগ, কৃষি, পর্যটন এবং দু’দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন।
সাংস্কৃতিক দল, ‘সৃষ্টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’, তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে। জর্ডানের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জীবনধারা প্রত্যক্ষ করেন।
পরে অতিথিরা নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন। নৈশভোজে বিশেষভাবে তৈরি করা বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়। এ প্রয়াসের মাধ্যমে আরব বিশ্বে বাংলাদেশি খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

নৈশভোজ চলাকালীন দর্শকদের জন্য বাংলাদেশের ব্যবসা – বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অবকাঠামো নিয়ে প্রচারণামূলক অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন করা হয়। যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স এবং ঔষধ শিল্পকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশের চা পাতা উপহার হিসেবে আগত অতিথিদের প্রদান করা হয়।