প্রবাস মেলা ডেস্ক: হেমন্তের এক সন্ধ্যায় ওপার বাংলার বেশ কয়েকজন সঙ্গীতশিল্পী ও সংস্কৃতি-কর্মী’র মিলনমেলা বসেছিলো গত সোমবার প্রবাস মেলা কার্যালয়ে। তারা সবাই কোলকাতার সঙ্গীত সংগঠন রবির-বীণা’র সদস্য। তারা মূলত বাংলাদেশে এসেছিলেন উদীচী’র (গোপালগঞ্জ জেলা) আমন্ত্রনে। প্রাণের টানে তারা ঢাকায় এসে প্রবাস মেলা কার্যালয় পরিদর্শন করেন। প্রবাস মেলা পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। তাদের সাথে আড্ডায় ও চা-চক্রে উপস্থিত ছিলেন প্রবাস মেলা’র উপদেষ্টা, টিভি উপস্থাপক ও আবৃত্তিকার মামুন ইমতিয়াজ, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও সঙ্গীতশিল্পী ইঞ্জিনিয়ার ফখরুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরীফ মো: ওমর খালেদ (সবুজ), উদীচী’র সংগঠক বিমল মজুমদার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী জুবাইদা নাজনীন চৌধুরী। ঐদিন সন্ধ্যায় তারা আড্ডায়-আলাপে প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশও তাদের আপন দেশ। একই ভাষায় তারা কথা বলেন। তাদের কেউ গান গেয়ে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে আবার কেউ-বা যন্ত্রসঙ্গীত বাজিয়ে আড্ডাকে করে তোলেন প্রাণবন্ত। ওপার বাংলায় ফিরে যাবার আশু তাগিদ থাকলেও কেমন যেন প্রাণের টানে তাদেরকে বলতে শোনা গেছে, আহ্! আরও কিছুক্ষণ যদি থাকা যেতো! এমন আক্ষেপ রেখে আবার ঢাকায় বেড়াতে আসার তাগিদ অনুভব করলেন সবাই। যাবার কালে তাদের হাতে প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকাটির সম্পাদক শরীফ মুহম্মদ রাশেদ ও নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু। বাংলাদেশে আগত রবির-বীণা’র সদস্যদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
বীণা ভট্টাচার্য:
বীণা ভট্টাচার্য কোলকাতার একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এবং রবির-বীণা সংগঠনের সম্পাদক। জন্ম কোলকাতায়। তার পূর্বপূরুষের বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা’র বাহাদুরপুর গ্রামে। তার সঙ্গীত গুরু হলেন শ্রদ্ধেয় শুভেন্দু মাইতি এবং কবীর সুমন। শ্রুতি নাটক, মঞ্চ নাটকে সামন পারদর্শী তিনি। তার নেশা কবিতা লেখা, গল্প লেখা। তিনি দর্শনশাস্ত্রে এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেছেন। প্রফেশনালভাবে থিয়েটারের গান করছেন নিয়মিত। মঞ্চেও পারফর্ম করছেন এখনও। উদীচী’র আমন্ত্রনে বহুবার বাংলাদেশ এসেছেন তিনি। বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন নিয়ে নাটকও মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি ‘খোয়াই-কোপাই’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এখন লোকসঙ্গীত নিয়ে কাজ করছেন তিনি। কোলকাতা’র বেসরকারী টিভি চ্যানেলেও গান গেয়েছেন বহুবার।
মহুয়া পৈত:
মহুয়া পৈত একজন নাট্যকর্মী ও সিরিয়াল আর্টিস্ট। অভিনয় করতে ভালোবাসেন। সঙ্গে গান, কবিতা (বাচিকশিল্পী) পারফর্ম করছেন। গল্প এবং কবিতা লিখতে ভালোবাসেন। তার প্রথম কবিতার বই ‘তাড়স’। এবছর তার দু’টো বই বের হয়েছে। একটা উপন্যাস ও একটা গল্পের বই। বাংলা সিরিয়াল ‘শ্রীময়ী’, এখানে আকাশ নীল, গুড্ডু, গুড়িয়া, ধুলোকণা, নবাব নন্দিনী ইত্যাদি সিরিয়ালে কাজ করেছেন। তার পূর্ব পুরুষের ভিটা বাংলাদেশের বরিশাল ও ঢাকায়। তিনি একটি এনজিও পরিচালনা করছেন। এর নাম NASA (Madhyagram)। এছাড়া তিনি বেশ কিছু সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত আছেন। প্রথমবারের মতো তিনি বাংলাদেশে এলেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি কিন্তু মনে হচ্ছে এখানে আমার নিজস্ব মানুষজন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখানে আমার আত্মিক বন্ধন অনুভব করলাম’।

মলি ভৌমিক:
মলি ভৌমিকের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা’য়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে এমএ, বিএড করেছেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সঙ্গীত শিক্ষিকা। আকাশবাণী বেতার এবং দূরদর্শনে (কোলকাতা) নিয়মিত গান করেন। রবির-বীণা, কোলকাতা’র সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা। তিনি যে সকল সঙ্গীত গুরুদের সান্নিধ্য পেয়েছেন তারা হলেন- তার পিতা শ্রীযুক্ত সুঁবোধ ভৌমিক, শ্রীমতী মীঁরা বন্দ্যোপাধ্যায়, পন্ডিত দীণনাথ মিত্র, শ্রীযুক্ত জঁটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় এবং শ্রীযুক্ত রামকুমার চট্টোপাধ্যায়।
দীপেন ভট্টাচার্য:
দীপেন ভট্টাচার্যের জন্ম কোলকাতা’র কোটালীপাড়া জেলার উনসিয়া গ্রামে। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাশ করেন। লোকসঙ্গীত নিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর যুক্ত আছেন। সারাজীবন দোতারা নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত। নাটকে পূর্ব পশ্চিম নামে একটি দলের সঙ্গে দীর্ঘ ১২ বছর যুক্ত আছেন। এছাড়া টিভি সিরিয়ালে অভিনয় এবং সুরকার হিসাবে কাজ করছেন। মেগা সিরিয়াল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (ডিডি বাংলা)’য় কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানে সুর দিয়েছেন। এছাড়া এ্যানিমেশন ফিল্ম-এ সুর ও কণ্ঠদান করেছেন এবং লালন সাঁইজির গান নিয়ে ব্যাপক চর্চার মধ্যে রয়েছেন। তিনি একজন সিনেমা, মঞ্চ ও শ্রুতিনাটকের শিল্পী। লোকসঙ্গীতে তার শিক্ষক ও গুরু অভিজিৎ বোস ও সুভেন্দু মাইতি।
দীপঙ্কর দাস:
দীপঙ্কর দাসের জন্ম কোলকাতার বারোনগরে। তার পিতার নাম বলাই চন্দ্র দাস। তিনি একজন ইংরেজি শিক্ষক। তার মাতা শ্রীমতি কৃষ্ণা দাস একজন গৃহিনী। দীপঙ্কর দূর্গাপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক এবং পশ্চিমবাংলা বিই কলেজ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি লার্সেন এন্ড টার্বো লিমিটেড ইন্ডিয়া, জ্যাকবস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডিয়া অয়েল এর একটি প্রকল্প ওরলি এবং সুয়েজ ওয়াটার এর বাংলাদেশের পানি শোধনাগার প্রকল্পে কাজ করেছেন। শিল্প সংস্কৃতিতে তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে লোকসঙ্গীতে তিনি একজন নিবেদিত শিল্পী। তার গুরুজীর নাম অভিজিত বোস।
এছাড়াও সঙ্গীতশিল্পী ববিতা সরকার, মল্লিকা চক্রবর্তী, প্রতিমা প্রামাণিক, বাচিকশিল্পী ও নাট্যশিল্পী শ্যামলী রায়, শিবশংকর চক্রবর্তী, প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী তাদের সফরসঙ্গী ছিলেন।