প্রবাস মেলা ডেস্ক: পাক্ষিক প্রবাস মেলা অফিসে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী অ্যাড. ফজলুর রহমান। সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় পাক্ষিক প্রবাস মেলা অফিসে এসে দেশের বর্তমান রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। আলোচনার এক ফাঁকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের হাতে প্রবাস মেলার সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার অনলাইন রিপোর্টার আশরাফুল আলম মাসুদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাড. উম্মে কুলসুম রেখা। অ্যাড. উম্মে কুলসুম রেখা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং গণআদালতের ২৪ জন বরেণ্য ব্যক্তির একজন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।
প্রাথমিক জীবন
অ্যাড. ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার জয়সিদ্ধি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।
শিক্ষাজীবন
অ্যাড. ফজলুর রহমান ইটনা হাই স্কুল, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে বি.এ পাশ করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

রাজনৈতিক জীবন
অ্যাড. ফজলুর রহমান একজন আইনজীবী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হয়েছেন তিনি।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে এবং ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন।
আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি পাকিস্তান আমলে ছাত্র রাজনীতি করেছি বাংলার স্বাধীনতার স্বপ্নে। বিএলএফ এর মেম্বার ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের আগেই। এবং আমি যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছি ভারতের দেরাদুনে বিশ্ববিখ্যাত ট্রেনিং সেন্টার তান্ডুয়া ট্রেনিং সেন্টার থেকে। মুক্তিযুদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর লিডার ছিলাম। এটা আমার জীবনের গৌরবের প্রধান অংশ। তারপর ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট এবং জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করি। এরপর থেকেই এদেশের মানুষের পেটের ভাত, কাপড়, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সুশাসনের জন্য এখনও সংগ্রাম করে চলেছি। দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমি লাভে বা লোভে কোনদিন কোন সরকারি দলে ছিলাম না এবং আমি আমার জীবনে কোনদিন কোন সরকারি দলে ছিলাম না। আমি কোনদিন কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করি নাই।
চলমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাড. ফজলুর রহমান বলেন- বাংলাদেশে এখন আর রাজনীতি নেই। এখন যা চলছে সেটাকে রাজনীতি বলা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ গভীর অন্ধকারে চলে যাবে। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। আমি মনেপ্রাণে চাই তরুণ প্রজন্ম এ দেশের গণতন্ত্রের হাল ধরুক। মৃত্যুর আগে এক গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই।