প্রবাস মেলা ডেস্ক: ১৬ নভেম্বর ২০২২, বুধবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন পাক্ষিক ‘প্রবাস মেলা’ অফিসে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক-অভিনেতা কাজী হায়াৎ। এসময় তার চলচ্চিত্র জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ‘প্রবাস মেলা’র কলাকুশলীরা। আলোচনায় উঠে আসে তার চলচ্চিত্র জীবনের কথা, চলচ্চিত্র নির্মাণে দায়বদ্ধতার কথা, শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে তার ভাবনা কথা। আলাপচারিতার এক ফাঁকে তার হাতে ‘প্রবাস মেলা’র সৌজন্য কপি তুলে দেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু।

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হায়াৎ একাধারে একজন পরিচালক, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং অভিনেতা। ১৯৭৯ সালে ‘দি ফাদার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালনা জীবন শুরু করেন তিনি। এর আগে ১৯৭৪ সালে পরিচালক মমতাজ আলীর সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে কর্মজীবন শুরু তার। ১৯৭৬-১৯৭৭ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের সাথে সীমানা পেরিয়ে ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন কাজী হায়াৎ।
স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ ১৯৪৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাজী হায়াৎ এর বাবার নাম মো: কুটি মিয়া কাজী, মায়ের নাম আফরোজা বেগম। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে কাজী হায়াৎ সবার বড়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন কলেজ) থেকে হিসাব বিজ্ঞানে এম.কম সম্পন্ন করেন।
কাজী হায়াৎ এ পর্যন্ত দাঙ্গা (১৯৯২), ত্রাস (১৯৯২), চাঁদাবাজ (১৯৯৩), সিপাহী (১৯৯৪), দেশপ্রেমিক (১৯৯৪), লাভ স্টোরি: প্রেমের গল্প (১৯৯৫), আম্মাজান (১৯৯৯), ইতিহাস (২০০২), কাবুলিওয়ালা (২০০৬) এবং ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না (২০১০) সহ ৫১টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। তার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫০টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। সর্বশেষ তার পরিচালনায় সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘জয় বাংলা’ সেন্সর পেয়েছে। এটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
কিংবদন্তীর এ চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, বাণিজ্যিক ছবি হওয়া সত্ত্বেও আমার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো মানুষের জীবনের কথা বলেছে, অন্যায়ের কথা বলেছে, সমাজের কথা বলেছে। আমি মনে করি ছবিতে দর্শকদের প্রতি একটা অঙ্গীকার থাকা উচিত, সাধারণ মানুষকে বিনোদনের বাইরে বাড়তি কিছু দেয়া উচিত। তাই আমি চেষ্টা করেছি ছবিতে দেশপ্রেম, মানুষের মুক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলার।
কাজী হায়াৎ তার চলচ্চিত্র জীবনে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অন্যান্য চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ সর্বমোট ৭৩ টি পুরস্কার লাভ করেছেন। তিনি তেহরান, মস্কো, চেকোস্লাভিয়াসহ চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। দাঙ্গা চলচ্চিত্রের জন্য আফ্রো-এশিয়ো সরিডরি কমিটি অ্যাওয়ার্ড কর্তৃক প্রদেয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে নয়টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং লেখনীর জন্য তিনটি বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।