প্রবাস মেলা ডেস্ক: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে সহিংস হামলা এবং সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে সাতটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), অনলাইনে নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন অ্যাকসেস নাউ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি), জার্নালিস্ট ফর ডেমোক্রেসি ইন শ্রীলঙ্কা (জেডিএস) ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই)।
১৮ ডিসেম্বর এসব প্রতিষ্ঠানে হামলার কথা উল্লেখ করে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দৃশ্যত এসব সমন্বিত সহিংস কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যম, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও সাংস্কৃতিক পরিসরের বিরুদ্ধে হামলা গুরুতরভাবে বৃদ্ধির বিষয়টিকে তুলে ধরেছে। একই রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর এসব ঘটনা ঘটে। ১২ ডিসেম্বর দেশটির রাজধানীতে প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা, ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
বিবৃতি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো বলেছে, রাজনীতিবিদ, অধিকারকর্মী, শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা, বিশেষত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে যখন রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সময়ে আইনের শাসনের অবক্ষয় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক আলোচনা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে আসা গুরুতর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
‘আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন, যাচাইকৃত খবরগুলো এই আভাস দিচ্ছে যে দুটি সংবাদমাধ্যমের জ্বলন্ত প্রাঙ্গণের (ভবনে) মধ্যে সাংবাদিক ও কর্মীরা আটকা পড়েছিলেন। তারা জীবনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া প্রদানে যেকোনো ব্যর্থতা নাগরিকদের জীবন রক্ষার রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। তার ওপর সংবাদপত্রগুলোর ছাপা ও অনলাইন সংস্করণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়াটা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের জগতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং এটা স্বাধীন সাংবাদিকতা যে হুমকির মুখে পড়েছিল তার তীব্রতাকে তুলে ধরে। তা ছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের হয়রানি ও শারীরিক আঘাতের ভয় দেখানোটা যারা রাষ্ট্রের কার্যকর সুরক্ষার অনুপস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে চায় তাদের বেপরোয়া ভাব বাড়তে থাকার বিষয়টিকে তুলে ধরে।’
ছায়ানটের ওপর হামলা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি বৈরিতার একটি বৃহত্তর ধারার ইঙ্গিত দেয়, যা শিল্পীসত্তার প্রকাশ ও মতের বৈচিত্র্যের জন্য ক্রমেই অনিরাপদ পরিবেশকে উন্মোচিত করে। এসব ঘটনা অনলাইন ও অফলাইন সহিংসতার একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করে, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পরিকল্পিত হয়রানি এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত নজরদারির চর্চা, যা দায়মুক্তির একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এ বছরজুড়ে আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং বাউল, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও শিল্পীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং তাদের ওপর হামলার একটি ধারা দেখা গেছে।