প্রবাস মেলা ডেস্ক: পাঁচ জনের মধ্যে যেকোন একজন মাত্র নয়, সে হল একেবারে পঞ্চম। অন্যকে বাদ দিয়ে চোখে পড়ে। অমিত রায়ের স্বাতন্ত্র্য বোঝাতে রবীন্দ্রনাথ একথা বলেছিলেন। সস্তা সংস্কৃতির ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে যে নিজের দৃঢ় জায়গা করে নিয়েছে কলকাতার সংস্কৃতির আঙিনায়, তার ক্ষেত্রে একথা বলাই যায়। তিন বছর ধরে কণ্ঠনির্ভর শিল্পের নানা ফর্ম নিয়ে কাজ করে কাজ করে চলেছে কথা মঞ্জরী। এবার গড়িয়ার এই সংগঠন তার প্রমাণ রাখল ৭ নভেম্বর, ২০২১- কলকাতা শহরে নন্দন চত্বরে অবনীন্দ্র সভাঘরে। কথা মঞ্জরীর ইউএসপি – অভিনবত্ব। যাঁর হাতে কণ্ঠ শিল্পের এই প্রয়োগ সম্ভব হয়েছে কলকাতা বুকে, তিনি সংস্থার আহ্বায়ক সায়ন্তনী বসু। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমতে আবারও প্রমাণ করলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির কথা বেশি করে বলতে হবে। তাই তো কথা মঞ্জরীর সম্প্রীতির বারোমাস্যা-রবিবারের দুপুরে একরাশ মুক্ত বাতাস। কখনও একক, কখনও দ্বৈত-সমবেত কবিতার বৈচিত্র্য ধরা পড়ল বারেবারে, তারই মাঝে সংবর্ধিত হলেন বিশিষ্টরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট কবি শ্রী মানিক দে, বিশিষ্ট কবি শ্রী জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট কবি শ্রীমতি অঞ্জনা গুহঠাকুরতা এবং বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শ্রী প্রসূন চট্টোপাধ্যায়।

প্রতিবারের মতো এবারও আলাদা করে নজর কাড়ল সুবর্ণা দে মজুমদারের গান। খানিকক্ষণের জন্য শ্রোতাদের আবিষ্ট করেছিল, বললে অতিরিক্ত বলা হয় না।

কবিতা ও কবিতা কোলাজে যাঁরা দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন তাঁরা হলেন, দেবস্মিতা নাথ, মানস চক্রবর্তী, কেয়া চৌধুরী, গার্গী মুখোপাধ্যায়, সুমিতা পোদ্দার, আইভি ধর, স্বাতী কর, টুটুন দাস। অডিটোরিয়ামে উপস্থিতি এক দর্শক জানালেন, কেমন করে যেন এক মুহূর্তে সময়টা কেটে গেল। আলাদা করে যাঁদের কথা শ্রোতাদের কন্ঠে উচ্চারিত হল, তাঁরা হলেন- চন্দ্রালী কর, সুস্মিতা রায়, স্বপ্না মুখোপাধ্যায়, তন্ময় কুমার বক্সি, পুষ্পিতা দাস, দীপা সরকার, দোলনচাঁপা মৈত্র।

যাঁদের যৌথ উপস্থাপনা শ্রোতাদের নজর কেড়েছে তারা হল- কালের মন্দিরা, ছন্দসী ভবানীপুর, সারথি এবং কথা বাহার। সম্প্রীতির বার্তা দিল যে দুটি সুন্দর উপস্থাপনা সেগুলি হল বেবী বালা ও ইন্দ্রাণী বাড়ুই এর ‘সম্প্রীতির বারোমাস্যা’ এবং তিয়াষা গুপ্তর ‘এই আমি তোর কাছে’। সামগ্রিকভাবে এবং অবশ্যই সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার কৃতিত্ব যাঁর পাওনা তিনি হলেন আশিস দাশগুপ্ত। কণ্ঠ শিল্পের একরাশ অভিনব অনুভব নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হলেও রেশ থেকে গেল আরও অনেক ক্ষণ। সঙ্গে তৈরি হল আবার এক নতুনত্বের দাবি।