রনি মোহাম্মদ, লিসবন, পর্তুগাল প্রতিনিধি: পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শনিবার রাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে সংগঠিত সংঘর্ষ নিয়ে দেশে এবং প্রবাসের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একজন নিহত হওয়ার যে সংবাদ প্রচার হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।
লিসবনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা মার্তৃম-মনিজের রুয়া দো টেরিনোতে প্রবাসী বাংলাদেশি দুই পক্ষের মাঝে ব্যক্তিগত ও আঞ্চলিক বিরোধের জের ধরে গত শনিবার পর্তুগাল সময় আনুমানিক রাত ৯:১০ মিনিটে সংঘর্ষ হয়েছে। উক্ত ঘটনায় চারজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এসময় আহতদের স্থানীয় লিসবনের সাও জোসে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, গেল বছরের সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের মাঝে প্রথম মারামারির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলমান ব্যক্তিগত সমস্যার জের ধরে গত শনিবার রাতে দুই পক্ষের মাঝে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের পরপরই সেখানে পুলিশ পৌঁছে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সংঘর্ষের পরপরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লিসবনের সান্তা মারিয়া মাইওর জইন্তার প্রেসিডেন্ট ড. মিগুয়েল কোয়েলো। এতে করে পর্তুগালের লিসবনে বসবাসরত সাধারণ বাংলাদেশিদের মাঝে বেশ আতংক ও উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে এই সংঘর্ষ কে কেন্দ্র করে পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে লিসবনে বাংলাদেশি দুই পক্ষের মারামারিকে ধর্মীয় রেষারেষি থেকে সৃষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে প্রচার করে। ধর্মীয় এমন অনাকাঙ্খিত মারামারি স্থানীয় পর্তুগীজগন তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও অভিমত প্রকাশ করেন।
সেই সাথে সংঘর্ষ নিয়ে বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ না করে একে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের রাজনৈতিক হামলা ও এতে একজন বাংলাদেশি নিহত, দুই জন গ্রফতার হওয়ার খবর প্রকাশ করে যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই নিয়ে পর্তুগাল আ’লীগের দুই পক্ষের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম ও আবুল বাসার বাদশা, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও পর্তুগাল বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার বলেন, সৃষ্ট এই হামলার সাথে রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন নেই এবং হামলাটি সংঘঠিত হয় তাদের একান্ত ব্যাক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে।
এই নিয়ে লিসবনের বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলর রানা তাসলিম উদ্দিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ঘটনাটি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ঘটনা হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ দেয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে যে গুজব উঠেছে আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই ব্যক্তি এখনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেছেন।
এদিকে হামলা পরবর্তী সময়ে আতঙ্কের মাঝে রয়েছে পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী এবং অভিবাসন প্রত্যাশায় এদেশে আসা নতুন বাংলাদেশিরা। এমন হামলার জেরে পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটির সম্মানহানির পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য আগামী দিনে অভিবাসন বিভিন্ন ইস্যুতে কঠোরতা আরোপ করার আশংঙ্কা ও সংঘর্ষটি ধর্মীয় কারণে হয়েছে প্রমাণিত হলে মুসলিম বাংলাদেশিরা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনে বাধাগ্রস্ত হবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। তাই ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে এবং এধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ প্রবাসীরা।