হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্থ জুইশ সেন্টারে ৩৬ জন অভিবাসী বাঙালি নারী লেখকের ইংরেজি ভাষায় লেখা ও অনুবাদকৃত ৩৬ টি গল্প নিয়ে গল্প সংকলন “দ্য গোল্ডেন লিভস” বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। বইটি যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লেখক ও বিজ্ঞানী পূরবী বসু এবং লেখক-প্রকাশক পপি চৌধুরী। ৩৩৫ পৃষ্ঠার দৃষ্টিনন্দন এ বইটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশ করেছে “ক্রিয়েটিক ডিজাইন এন্ড বুক পাবলিকেশন”, প্রচ্ছদ করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ।
আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে নিউইয়র্কের বাংলাদেশের প্রথম নারী কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন নেসা, বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট ৩৯ এর অ্যাসেম্বলী মেম্বার ক্যাটালিনা ক্রুজ, জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন-এর ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূর-এ-ইলাহি মিনা। মেইন স্ট্রীম থেকে এসেছিলেন লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা কারেন গোল্ডফ্ল্যাব, মিজ অ্যান্ড্রিয়া, প্রফেসর আনিটা বাক্স, কবি সাফিয়া জামি, গেরি গ্রেঞ্জার, সিলসিয়া ডি. রোজারিও, ম্যাগডুলিন গোমেজ, আইরিন ডি রোজারিও এবং ইসাবেলা ডিয়াস।
আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী তাহমিনা শহীদ একটি দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন, আমেরিকার বিখ্যাত লেখক মায়া অ্যাঞ্জেলো’র “স্টিল আই রাইজ” কবিতাটি পাঠ করেন মিজ অ্যান্ড্রিয়া। এরপর সম্মানিত কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন নেসা তার মূল্যবান বক্তব্যে বলেন, “শুধু বাংলা বা ইংরেজিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের এই ডায়াসপোরা সাহিত্য স্পানিশ ভাষায়ও অনুদিত হোক, এটাই আমার প্রত্যাশা। কারণ নিউইয়র্কে ইংরেজির পরে স্প্যানিশ হল দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা। স্প্যানিশ ভাষায় বাঙালি লেখকদের লেখা অনুদিত হলে বিশাল স্প্যানিশ জনগোষ্ঠির কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের খবর।”
বিশিষ্ট লেখক এবং বইটির অন্যতম সম্পাদক পূরবী বসু তার বক্তব্যে বলেন, “এই হৃদয়গ্রাহী গল্পগুলি, যার অনেকগুলিই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তা সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে থাকবে। প্রাথমিক অভিবাসী বাঙালি নারীদের চিন্তা-ভাবনা, তাদের জীবনযাপন প্রণালী, কীভাবে তারা তাদের সময় কাটিয়েছিল, তাদের দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল, মানবাধিকার, ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল একটি পশ্চিমা দেশে-এসবই জানতে পারবে পরবর্তী প্রজন্ম বইটি থেকে।”
প্রাণবন্ত এই প্রকাশনা উৎসবটিতে অনেক গুণী মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অনেক গুণী সাংবাদিকেরা। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ মোহম্মদুল্লাহ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক লাভলু আনসার, সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক মনজুর আহমেদ, বাপসনিঊজ এডিটর সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, চ্যানেল আই এর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, ভয়েস অব আমেরিকার নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আকবর হায়দার কিরণ, দৈনিক ইত্তেফাক-এর ইউএসএ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, এটিএন নিউজ এডিটর কানু দত্ত, বাংলাভিষণ-এর নিহার সিদ্দিকী, সাংবাদিক আুব সাঈদ রতন,সাংবাদিক শামীম আল আমিন সহ আরো অনেকে।