শাহজাহান চঞ্চল, রিয়াদ, সৌদিআরব থেকে: অকারণেই আজকাল মন খারাপ হয়ে যায়, উদাস লাগে। মনে হয় পৃথিবীর সবকিছু বাউল হয়ে গেছে। করোনা সংকট কেড়ে নিয়েছে সময়ের মধুবতী ঘর সংসার।
বরাবরের অভ্যাস আমার, মন খারাপ হলে জলের ধারে যাই । নিঃশব্দে বসে থাকি। জলের ঢেউ দেখি, কাঁপন দেখি। জলের স্রোতে ভাসিয়ে দেই কষ্ট সকল যতো। আজও তেমনি গিয়েছিলাম জলের ধারে, আমি এবং আমার বউ। সাথে ছানাপোনা দুটিও ছিলো। তবে প্রাকৃতিক জলাধার নয় সেটি, কৃত্রিম। তবু সে জলে কাঁপন ছিলো, হাঁসের সাঁতার ছিলো। জলের গায়ে আলোর ঝিকিমিকি ছিলো।
সিঁড়ি বাঁধা ঘাট ছিলো। ঘাটের নিঃশব্দ ঝাপ দিচ্ছিলো জলে। আমিও নিঃশব্দের সাথি হলাম। কিন্তু নিঃশব্দ আমাকে তর্জনী উঁচিয়ে সরব হতে বললো। আমি শব্দ করে সুর ভাজলাম- ও আমার এক জীবন, জীবনরে। তারপর আবার সুর ভাজলাম- মৌনতার সুতোয় বোনা একটি রঙিন চাদর, সেই চাদরের ভাঁজে নিঃশ্বাসের ছোঁয়া আছে, আছে ভালোবাসার আদর। আমার বউও গুণগুণিয়ে উঠলো- যে আমার হৃদয় করলো চুরি, হলোনা তাঁর হলোনা বিচার। মনে হলো খেজুর গাছের পাতায় পাতায় তখন শব্দ। জেগে উঠছে কৃত্রিম ঝর্ণা। পাহাড় বেয়ে কোলাহল করে নামছে জল। হাঁসের পায়ের রংয়ের মতো হলুদাভ আলো শুরু করলো ধ্রুপদ নৃত্য। আমার মনের পর্দা সরতে শুরু করলো। সাত পর্দা উঠে যেতেই আমি দেখলাম বসরাই গোলাপ যেনো তাঁর হাতে। মুখে তাঁর পিরামিডের দেশের নেফারতিতির মতো হাসি, চুল থেকে ভেসে আসছে ধানসিঁড়ি নদীর জলের গন্ধ। আমি উঠে দাঁড়ালাম, বললাম- চলো হাঁটি। আলো ভেঙে, জলের গন্ধ ভেঙ্গে, খেজুর পাতার শব্দ ভেঙ্গে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। আমাদের পথ হাঁটা ভালবাসার সব শব্দ নিয়ে। তাঁর পাশে হাঁটতে হাঁটতে মন ভালো হতে থাকল আমার।