প্রবাস মেলা ডেস্ক: সাংগাত বাংলাদেশ এবং ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং-এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণে ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ বা ‘উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’ দিবস উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সংগঠনের মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বছর বিশ্বব্যাপী ১৩তমবারের মতো পালিত হলো ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ দিবস। ২০১৩ সাল থেকে নারীর প্রতি নিপীড়ন, বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে এই বৈশ্বিক গণআন্দোলনের সূচনা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নির্যাতনের শিকার হন। সে হিসাবেই ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ নামের উৎপত্তি।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ-বিগ্রহসহ বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত রেখে কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন সাংগাতের কোর কমিটির সদস্য ফওজিয়া খোন্দকার ও ডালিয়া আহমেদ। নৃত্য পরিবেশন করেন শারাবান তহুরা ও হোসাইন ইসলাম জয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন লাবিক কামাল, সমগীত ও নাহিদ সুলতানা। এছাড়া কন্যাশিশু নির্যাতনের বাস্তবতা তুলে ধরে নাটিকা পরিবেশন করেন সাংগাত পারফর্মিং স্পেস বাংলাদেশের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাজনীন পাপ্পু। তিনি পরিবার ও সমাজে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান, সমমর্যাদা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত সচেতনতাই পারে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।