আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: অবিলম্বে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ও বহিরাগত দালালদেরকে, প্রত্যাহার এবং দালালমুক্ত করার দাবিতে ইতালির রোমে (বাংলাদেশের নিজস্ব ভবন) দূতাবাসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। দালাল নির্মূল ও দূতাবাস দুর্নীতিমুক্তকরণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ইতালির ইতিহাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কখনোই নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আসেনি। বিশেষ করে রোম দূতাবাসের কাছ থেকে। চার দশকে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এটাই প্রথম কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। উক্ত কর্মসূচিতে ১১ দফা দাবি নিয়ে অর্ধশতকের বেশি প্রবাসী দূতাবাসের সামনে অবস্থান নেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এটি বিক্ষোভ সমাবেশে রূপ নেয়।
ঐ কর্মসূচির প্রধান উদ্যোক্তা ইতালি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ রব মিন্টু বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন দূতাবাসের বিরুদ্ধে নয়, দূতাবাসের অসৎ, দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, দালালদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার আত্মীয়ের যোগসাজসে দূতাবাস দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রবাসীরা চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এসব অসাধু কর্মকর্তাদের হয়রানিতে। দূতাবাসে প্রবাসীদের ন্যায্য সেবা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি ।
তবে অবস্থান কর্মসূচি এবং দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদারের বক্তব্য হলো ‘দূর্নীতির অভিযোগ ঢালাওভাবে করলেই হয় না, সুনির্দিষ্টভাবে লিখিতভাবে জানাতে হয়। দালাল বললেও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। কেবল বলছে, দালালী বন্ধ করতে হবে। কে করছে, তাকে বলে না কেন? এর সাথে দূতাবাসের কি সম্পর্ক?’ সেটি বোধগম্য নয় ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘ইতালি আওয়ামীলীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় বিবাদ শুনেছি, আর সেটাকে নিয়ে আসছে দূতাবাসের ওপর। তিনি বলেন, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবাসীদের সেবা নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। গত দেড় মাসে ১০ হাজারের বেশি সেবাপ্রাথীকে সেবা প্রদান করেছে দূতাবাস। একজন অনিয়মিত প্রবাসীও যেন বৈধতার আবেদন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে বন্ধের দিনও দূতাবাস খোলা রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’
আরো বক্তব্যে উঠে আসে ‘দালাল নির্মুল ও দূতাবাস দুর্নীতি মুক্তকরণ কমিটি’র আহ্বায়ক আফতাব বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে কে এম লোকমান হেসেন, আব্দুর রব ফকির, আলমগীর হোসেন, মাহাবুব প্রধানসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। এক পর্যায়ে ইতালির রোমে বসবাসরত বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন

কর্মসূচাাতে বক্তারা বলেন, ‘দূতাবাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রদূত এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের প্রশ্রয় দিয়ে প্রবাসীদের হয়রানিতে অংশীদার হয়েছেন।’ এ জন্য বক্তারা রাষ্ট্রদূতের অবিলম্বে প্রত্যাহার দাবি করেন।
ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইতালিতে বৈধতা পেতে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাসপোর্ট সমস্যার সমাধান; ইতালিফেরত ১২৫ বাংলাদেশিকে অবিলম্বে ফিরিয়ে আনা; এপয়েন্টমেন্ট ছাড়া টোকেন ভিত্তিতে সেবা প্রদান; চিহ্নিত পাসপোর্ট দালালদের দূতাবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা; দালালদের সহযোগী কর্মচারীদের প্রত্যাহার করা । এবং ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য রোম দূতাবাস উন্মুক্তভাবে থাকবে কারণ প্রবাসীদের কাছে একটি দূতাবাস তাদের কাছে ছোট একটি বাংলাদেশ ।