অসীম বিকাশ বড়ুয়া, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন এক কোরিয়া প্রবাসী। সিউলের পার্শ্ববর্তী ছুংছন শহরের বোকদো ওমসং নামক এলাকায় মৃত্যুবরণ করা এই তরুণ প্রবাসীর নাম আমিনুল ইসলাম(৩৩)। তার পিতার নাম মো: মোস্তফা। ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা রামারবাগের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, বিকেল ২টায় সর্বশেষ ফেসবুকে দেশ ও বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসার পোস্ট শেয়ার করেন। আমিনুল ইসলামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছিল । ৬ মার্চ ২০২২, রবিবার বিকেল ৩টায় সময় আমিনুল ইসলামের লাশ বাংলাদেশ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে বিগত বছরগুলোতে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী রেমিটেন্সযোদ্ধা অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়াতে। কেউ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকে আবার কেউবা দুর্ঘটনায়। তবে যারা মারা গেছে তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা ছিল না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর পর সকালে ঘুম থেকে উঠতে না করার ঘটনাই সবচেয়ে বেশি। এমতাবস্তায় দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন কেন এমনটা হচ্ছে? শুধু বাংলাদেশিদের মধ্যে নয়, দক্ষিণ কোরিয়াতে অবস্থানরত সকল বিদেশিদের মধ্যে এটা বর্তমানে কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে দূতাবাসসহ বাংলাদেশের সংগঠন গুলো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং লাইভ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
জানা যায় আমিনুল ইসলাম ইপিএস কর্মী হিসেবে গত ৬ বছর পূর্বে দক্ষিণ কোরিয়াতে আসেন। দুই বছর বয়সের কন্যা সন্তান থাকলেও দেশে যেতে না পারায় দেখা হয়নি কখনো। ভিসা শেষ করে দেশে যাওয়ার কয়েক মাস আগেই মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি গাড়ির বডি তৈরির কোম্পানি আলকো ফানেল নামক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে ৮ জন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। আমিনুল ইসলামের সহকর্মী সামাদ সিকদার বলেন, আমিনুল ইসলাম অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না এবং তিনি শনিবার সারাদিন সুস্থভাবে কোম্পানিতে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে প্রতিনিধিদল মৃত আমিনুল ইসলামের কোম্পানি পরিদর্শনসহ লাশ দেশে পাঠানোর সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী আমিনুল ইসলামের ভাগিনা মো: রাসেল বলেন, প্রবাস জীবনের কষ্টের ফসল দেশে এসে দেখে যেতে পারল না আমার মামা। এদিকে এই রেমিটেন্স যোদ্ধার আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।