প্রবাস মেলা ডেস্কঃ ঢাকায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠার যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা ও ইউএই প্রবাসীদের একটি সংগঠন। বাংলাদেশ সরকারের অধিভুক্ত এনজিও ভিত্তিক সংগঠন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী ব্যবসায়ীদের গড়া সেচ্ছাসেবী সংগঠন আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসীদের জন্য মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নিম্ন বেতনে চাকরিজীবী, দারিদ্র্য প্রবাসীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গাড়ির ব্যবস্থাও করবেন বলে জানিয়েছেন এ দুটি সংগঠনের কর্তারা। সম্প্রতি মানবজমিন অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এয়ারপোর্টে অবতরণের পর যানবাহন সংকটে নিজ ঠিকানায় ফিরতে নানামুখী সমস্যায় পড়েন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। অথবা নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ধরতে যাদেরকে অপেক্ষা করতে হয় তারা নির্দ্বিধায় মুসাফিরখানায় অবস্থান করতে পারবে। অপর দিকে যারা দূর দূরান্ত থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রাম এসে ফ্লাইট এর জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেন কিংবা যাদের ইমিগ্রেশনে অকৃতকার্য হয়ে হোটেলে উঠা বা তাৎক্ষণিক বাড়ি ফিরে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে না তাদের জন্য এই মুসাফির খানায় অবস্থানেরও সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন বলেন, ফ্লাইট ধরতে প্রবাসগামী যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে হয়। দিকনির্দেশনা না পাওয়াতে অনেক সময়ও অপচয় হয়। আবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে প্রতারণা করেন প্রবাসীদের সঙ্গে। তাই আমরা প্রবাসীদের জন্য মুসাফির খানা চালু করছি। এর মাধ্যমে প্রবাসী যাত্রীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
অপর উদ্যোক্তা ও সংগঠক আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াকুব সৈনিক বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগ হয়তো খুব সহজে নিরসন হবে না। কিন্তু আমরা চাইলে সেই দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে পারি। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি মুসাফির খানার মাধ্যমে বিদেশগামী ও ফিরতি যাত্রীদের আবাসন, যানবাহন, খাবার থেকে শুরু করে বহুমুখী সেবা প্রদান করবো।
এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাফর চৌধুরী বলেন, মুসাফির খানার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে অনেক উপকৃত হবেন প্রবাসীরা। বিশেষ করে যাদের এয়ারপোর্টে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের জন্য মুসাফির খানা অত্যন্ত উপকারী হবে।
আবার, ফাউন্ডেশন দুটির কর্মকর্তারা জানান আগামী ২/১ মাসের মধ্যে এ মুসাফির খানা স্থাপনের জন্য কোন বাড়ী বরাদ্ধ নিয়ে সেবা প্রদান শুরু করা হবে। নিজস্ব ভবন তৈরী হয়ে গেলে সেখানেই সকল কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে। পাশা পাশি মুসাফির খানায় অবস্থানরত বিদেশ যাত্রীদের বিভিন্ন দেশের আইন কানুন ও ইমিগ্রেশন প্রসঙ্গে সাম্যক ধারণা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তরা।