প্রবাস মেলা ডেস্ক: সঠিক সময়ে বেতন পাচ্ছেন না বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। টানা পাঁচ মাস বেতন না পেয়ে রাজপথে নেমেছেন স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মানুষেরা। বেতন-ভাতার দাবিতে সোমবার (১১ মার্চ) এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তারা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে সময় মতো টাকা না পাওয়ায় ২১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন আটকে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলাম, টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসাটাও করতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে যাব।’
আরও এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজের বেতন দিতে পারছি না। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সমাধান হোক।’
বিষয়টি নিয়ে বিএফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, বেতন অনিশ্চিত হওয়ার পেছনে মূল কারণ এফডিসির আয় কমে যাওয়া। একসময় প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল, সরকারের রাজস্বেও যোগান দিত। বর্তমানে আয় কমার পেছনের কারণগুলো হলো- ৩৫ মিলিমিটারে সিনেমা নির্মাণের সময় কাঁচা ফিল্ম বিক্রয় বা ল্যাব প্রিন্ট হতো, ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার পর সেটি এখন বন্ধ। এছাড়া এফডিসির ভবন নির্মাণে তিনটি ফ্লোর ভেঙে ফেলাতে প্রতিষ্ঠানটির ৭০ ভাগ আয় কমে গেছে। পাশাপাশি দেশে সিনেমা হল কমে যাওয়ায় প্রযোজকদের সিনেমা নির্মাণের আগ্রহও কমেছে।
জানা যায়, ফ্লোর, ক্যামেরা, ডাবিং, এডিটিং, লাইট, কালার গ্রেডিং, বিএফএক্স, শুটিং স্পট ইত্যাদি ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে মাসে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় হয় এফডিসির। তার বিপরীতে ২১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ-পানির বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ মাসে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। আয় কমাতে এফডিসি এখন চরম সংকটে।