প্রবাস মেলা ডেস্ক: যথাযথ গুরুত্ব ও তাৎপর্যের সাথে অভিবাসী সপ্তাহ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২২ উদযাপন করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। জাপানে বাংলাদেশী কর্মীদের সংখ্যা এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩-১৯ ডিসেম্বর ২০২২ সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নেটওয়ার্কিং কর্মসূচি পালন করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ অভিবাসী দিবসের নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সপ্তাহব্যাপী বিশেষ নেটওয়ার্কিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মী প্রেরণকারী সংস্থা সমূহের প্রতিনিধি, রেমিট্যান্স হাউজের মালিক ও প্রতিনিধি, স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে কর্মী প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধি, জাপানে কর্মরত টেকনিক্যাল ইন্টার্ন, স্পেসিফাইড স্কিল্ড ওয়ার্কার ও স্টুডেন্ট ভিসায় আগত খন্ডকালীন কাজে নিয়োজিত কর্মী ও কর্মী নিয়োগকারী জাপানিজ সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক এবং জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও অন্যান্য দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়।

১৮ ডিসেম্বর ২০২২ টোকিওস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী প্রেরণ ও কর্মী নিয়োগ এবং রেমিট্যান্স প্রেরণের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সি আই পি সম্মাননা প্রত্যাশী জাপান প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের উপস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অভিবাসী দিবস উদযাপন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব শাহাবুদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সরকারের সঠিক পদক্ষেপ ও ব্যবস্থাপনায় দেশের জনসংখ্যা আজ জনসম্পদে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বের ১৭৪টি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ বাংলাদেশী সুনামের সাথে কাজ করছে। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, অভিবাসী কর্মীদের মর্যাদা ও অধিকার অক্ষুন্ন রাখা, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বিবেচনায় এ বছর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘থাকব ভালো, রাখব ভালো দেশ; বৈধ পথে প্রবাসী আয়-গড়ব বাংলাদেশ’।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকল অভিবাসীকে দেশের উন্নয়ন ও সুনাম বৃদ্ধিতে আরো বেশি দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অভিবাসী দিবসকে সামনে রেখে এ বছর সি আই পি (অনাবাসী বাংলাদেশি) ২০২০ হিসেবে ৬৭ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে ৩ জন জাপান প্রবাসী রয়েছেন। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে জাপান প্রবাসীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর, তিনি বলেন করোনা মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল দেশের অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং এজন্য আমাদের ফরেন রিজার্ভের উপর আনাকাঙ্খিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি জাপানের ক্রমবর্ধমান বিদেশী শ্রমিকের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি কর্মী এনে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুদৃঢ়তা নিশ্চিত করার জন্য সভায় অংশগ্রহণকারীসহ জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট উদাত্ত আহ্বান জানান।
অভিবাসী দিবস এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, অভিবাসীদের জন্য সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং জাপানে বাংলাদেশের জনশক্তি নিয়োগের বিশেষ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো: জয়নাল আবেদিন। পরবর্তীতে, আগত অতিথিবৃন্দ উন্মুক্ত আলোচলায় অংশগ্রহণ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ এবং জাপানে অধিক সংখ্যক বাংলাদেশী জনশক্তি নিয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ কাজে তাদেরকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়।