রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান : জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ আগস্ট ২০২০ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষ্যে জর্ডানের বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে এক রন্ধন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও জর্ডানের পোশাক শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সকলকে সম্মাননা পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। রন্ধন প্রতিযোগিতা চলাকালে বঙ্গমাতা’র জীবনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে জর্ডানস্থ নারী শ্রমিক এবং অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের মধ্যে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রাক্কালে জর্ডানস্থ বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা এর জীবন এবং অবদানের উপর বক্তব্য রাখেন।
একই দিন সকালে দূতাবাসে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর বঙ্গমাতার জীবনের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও জর্ডান প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে জনবা শরীফ বিপ্লব, জনাব জালাল উদ্দিন আহমেদ ও জনাব এহসান উল হক হেলাল বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বঙ্গমাতা শুধু বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনীই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা ও সাহসের উৎস। মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী ইতিহাস বঙ্গমাতাকে ছাড়া এক অসম্পূর্ণ দলিল। বঙ্গমাতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি বঙ্গমাতার মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা সকল সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে অবদান রেখেছেন। বিশেষতঃ ৭ই মার্চের ভাষণের প্রাক্কালে এবং ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে পাকিস্তানে বৈঠকে না যাওয়ার বিষয়ে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষণতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বঙ্গমাতার যে দূরদর্শী দক্ষতা তা-ই বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের মহা নায়ক বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছে প্রবল আস্থা ও বিশ্বাস। রাষ্ট্রদূত মহোদয় আরো বলেন, বঙ্গমাতার আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের যে যুগ রচনা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের নারীরা বিচরণ করছে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ও কর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের এই আদর্শ ধরে রেখে তাদের কর্মক্ষেত্রে ও দেশে অবদানের আহবান জানান।