রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান প্রতিনিধি: বাংলাদেশ দূতাবাস আম্মান, জর্ডান যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উদযাপন করেছে। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও জর্ডানের প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন স্মরণে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মিজ নাহিদা সোবহান সহ প্রবাসী বাংলাদেশী প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১০ জানুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনের তাৎপর্য হচ্ছে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে আমরা বাঙ্গালী জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও তা বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া অপূর্ণ ছিল। পাকিস্তানি সামরিক সরকার তাঁকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভোর রাতে গ্রেফতার করেই পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। কারণ তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদী নেতা। পাকিস্তানি সামরিক সরকার যেটি উপলব্ধি করতে পারে নাই যে বাংলাদেশের মানুষের নিকট বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও চারিত্রিক শক্তি বাঙ্গালীদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে ও বিজয় ছিনিয়ে আনতে উজ্জীবিত করেছে। তিনি আরও বলেন, ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। কারণ এই দিনে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের পুনঃগঠন ও উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করে তোলেন। এই দিনকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে উপস্থিত সকলকে আহবান জানান। এজন্য ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরে তিনি সরকারি কর্মচারী ও উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকলকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যার যার অবস্থান থেকে তাঁর তাঁর দায়িত্ব পালনে সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও প্রবাসী বাংলাদেশী জনাব জালালুদ্দিন বশির বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য শেষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সকলে উপস্থিত হয়ে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য রাষ্ট্রদূত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।