রাশেদ কাদের, আম্মান, জর্ডান:
পাহাড়ের শীর্ষদেশে অবস্থিত। জর্ডানের রাজধানী আম্মান সাতের অধিক পাহাড় নিয়ে গড়ে উঠা একটি অনন্য সুন্দর শহর। এর মধ্যে একটা পাহাড় ‘জাবাল কালা’ বা আম্মান সিটাডেল নামে পরিচিত। ১৭০০ মিটারব্যাপী প্রসারিত এই দূর্গটি প্রথমে ব্রোঞ্জ যুগে তৈরি হয়। গ্রীক বীর দেবতা হারকিউলিসের মন্দির এবং উমাইয়্যা আমলের প্রাসাদ ছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এখানে অবস্থিত ছিল। আম্মানের গুরুত্বপূর্ণ দর্শণীয় স্থানের মধ্যে এটি সবচেয়ে বিখ্যাত। সমূদ্রপৃষ্ট থেকে সাড়ে আটশ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই দূর্গটি আম্মানের ডাউনটাউন এলাকায় অবস্থিত।
আম্মান সিটাডেলের ইতিহাস:
রাব্বাথ আম্মোন নামে পূর্বে পরিচিত ছিল বর্তমানের আম্মান নগরীটি। খ্রীষ্টপূর্ব ১৮০০ শতকের ব্রোঞ্জ যুগের আম্মোন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল এটি। এই প্রাসাদ থেকেই সমস্ত আরব দেশগুলো নিয়ন্ত্রণ করত রোম সম্রাটেরা। সমস্ত আরব দেশগুলোর প্রাণ কেন্দ্রই ছিল এই প্রাসাদ ঘিরে। প্রাসাদের পাশে জর্ডানের সবচেয়ে পুরাতন শহর আল বালাদ নামক স্থানে বিনোদন কেন্দ্র ও বিচার কার্যালয় গড়ে তোলা হয়। এরপর রোমান, বাইজানটাইন ও উমাইয়্যাসহ বহু সাম্রাজ্যের অধীনে আসে এই দূর্গটি। এখানকার বেশিরভাগ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে যুগের পরিক্রমায়। তবে এখনো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে হারকিউলিসের মন্দিরের ৩০ মিটার উচ্চ দুটি পিলার। রোমানরা এটি পুননির্মাণ করেছিল। হারকিউলিসের হাতের মূর্তিও এখনো দূশ্যমান যা শক্তিশালী রোমানদের গৌরবত্ব প্রকাশ করে।
উমাইয়া আমলের প্রশাসনিক প্রাসাদটি এখনো খুবই আকর্ষণীয় স্থাপনা। খৃষ্টীয় ৭ম থেকে ৮ম শতাব্দীতে এটি নির্মিত হয়। যদিও ভয়াবহ ভূমিকম্পে এই প্রাসাদের খুব সামান্য অংশই এখন অবশিষ্ট আছে। নীল গম্বুজের অভ্যর্থনা কক্ষটি এখন দেখা যায়। চমৎকার স্থাপত্যের এই প্রাসাদের ভগ্নাংশটি সাক্ষী হয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের সুবর্ণ সময়ের যা পর্যটকদের আজও বিষ্মিত করে। এত উঁচুতে পানি সরবরাহের প্রাচীন পদ্ধতিও খুবই বিস্ময়কর। কূপ ও নালার মাধ্যমে এখানে পানি সংরক্ষণ ও বিভিন্ন ভবনে সরবরাহ করা হতো সুপ্রাচীন কাল থেকেই। ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি বাইজানটাইন আমলের গির্জাও এখন দৃশ্যমান। কিছু স্তম্ভ এবং মোজাইক করা মেঝে সেই গির্জার স্মৃতি বহন করছে। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভ্রমণ করেন এই স্থানটি যেখান থেকে আম্মান শহরটি পাখির চোখে দেখা যায়। রোম সম্রাটের ব্যবহৃত এবং অলংকারসহ প্রায় অনেক কিছুই সংরক্ষণ করা আছে জাদুঘরে। জর্ডনের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে হওয়াতে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড় দেখা যায় পরিত্যক্ত প্রাসাদটি দেখতে।