প্রবাস মেলা ডেস্ক: আধুনিক বাংলা গানের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল এর জন্মদিন ছিলো ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষ্যে ঐদিন সন্ধ্যায় তার ইস্কাটনস্থ বাসায় শিল্পী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক অঙ্গণের বিভিন্ন মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত অতিথিদের সমাগম ছিলো। দেখা যায়, কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম, কন্ঠশিল্পী মনির খান, আলম আরা মিনু, সঙ্গীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার, টিভি উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইল, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকীসহ অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। প্রবাস মেলা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান পত্রিকাটির উপদেষ্টা, উপস্থাপক, আবৃত্তিকার মামুন ইমতিয়াজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক শহীদ রাজু, জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, কন্ঠশিল্পী মৌটুসী, কন্ঠশিল্পী পলি সায়ন্তনী, প্রবাস মেলা’র কন্ট্রিবিউটর নকশী তাবাস্সুম। ঘরোয়া এই অনুষ্ঠানে বাদশা বুলবুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্গীতশিল্পী খুরশীদ আলম, আলম আরা মিনু, পলি সায়ন্তনী, মৌটুসী।

উল্লেখ্য, বাদশা বুলবুল এর জন্ম ১৯৬৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায়। তার মা মনোয়ারা বেগম একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। মায়ের দেখাদেখি সঙ্গীতে তারও পথযাত্রা শুরু হয় শৈশব থেকেই। ১৯৯১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তার মোট ২২ টি একক অডিও এবং ১৫০ এর বেশি মিক্সড এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার প্রথম গানের ক্যাসেট বাজারে আসে ১৯৯৪ সালে । তবে তিনি ‘সেই কৃষ্ণচূড়ার গাছ আজো মরেনি’ গানটি গেয়ে তারকাখ্যাতি লাভ করেন। ১৯৯৬ থেকে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান করেছেন। সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ১৯৭৯ এবং ১৯৮০ সালে তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করে ফোক সঙ্গীতে শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে স্টেজ শো এ তিনি পারফর্ম করতে শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু করেন। ২০০৫ সালে তিনি ৩৪তম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আরটিভির বেস্ট সিংগার পুরস্কার সহ নানা পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ওমান, দুবাই, কাতার, হংকং, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পারফর্ম করেন।

তিনি অসংখ্য অ্যালবামে গান গেয়েছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সে ছিল আমার প্রিয়া, সে যেন চিরসুখী হয়, হৃদয়ের কবিতা, তবুও প্রেম আসে, যে আমায় দুঃখ দিল, ভুলে যাবো আমি তোমাকে, ভুলতে চেয়ছিলাম, এক জনমে হইলোনা পিরীতি, পিরীতি আমার জন্য নয় ইত্যাদি।