প্রবাস মেলা ডেস্ক: সম্প্রতি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় “চালের ভরপুর জোগান, তবু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম” এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় “চালে অস্বস্তি, অন্য পণ্যে স্বস্তি” শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় একটি বক্তব্য প্রদান করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমন মৌসুমের শেষে এবং বোরো মৌসুমের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে এ বছর অন্তবর্তীকালীন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের কারণে নিম্নবিত্ত পরিবারের ব্যবহৃত গুটিস্বর্ণা বা মোটা চালসহ মধ্যম মানের চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের যাচাইকৃত বাজার মূল্যের তথ্য অনুযায়ী, কাওরান বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮.০০-৫২.০০ টাকা এবং চিকন চাল প্রতি কেজি ৭৮.০০-৮৫.০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। অপরদিকে, বাবুবাজারে মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮.০০-৫৪.০০ টাকা এবং চিকন চাল প্রতি কেজি ৭৮.০০-৮৫.০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মধ্যম মানের চাল (ব্রি-২৮) প্রতি কেজির কেনা দাম ৫৭.০০ টাকা ও বিক্রয়মূল্য ৫৭.৫০ টাকা। নাজিরশাইল চালের প্রতি কেজি কেনা দাম ৮৩.৫০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৪.০০-৮৫.০০ টাকা।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিনিকেট চাল মূলত মেশিন প্রসেসড রাইস। এটি ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি হাইব্রিড ধান ও কাজল লতার মতো মোটা জাতের ধান থেকে পলিশ করে মিনিকেট নামে ব্র্যান্ডিং করা হয়। এ ধরনের চালের মূল্য চালের সামগ্রিক বাজার দর প্রতিফলিত করে না।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বল্পমূল্যে চাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সদা সচেষ্ট রয়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, ভিজিডি, টিসিবি ও ওএমএসের মাধ্যমে প্রায় ৭ লক্ষ টন চাল বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, আসন্ন বোরো মৌসুমে চালের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে বাজারে চালের দাম আরও কমে আসবে।
খাদ্য ঘাটতি যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তুলেছে এবং চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে বিদেশ থেকে চাল আমদানিও অব্যাহত রেখেছে। খাদ্য মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে কোনো খাদ্য সংকট হবে না এবং চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।