প্রবাস মেলা ডেস্ক: অবশেষে গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে নতুন দুটি পথ খোলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মূলত বিদেশি চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার পর ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউসের বরাতে বলছে, ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে ৩০ মিনিট আলোচনা হয়। এ সময় বাইডেন নেতানিয়াহুকে সাফ জানিয়ে দেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে, মানুষের কষ্ট কমাতে ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য ইসরায়েলকে বিশেষ, সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপ ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, ইসরায়েল এসব ক্ষেত্রে কতটা পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ওপর মার্কিন নীতি নির্ভর করছে।
নেতানিয়াহুকে আলটিমেটাম দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের জন্য নতুন দুটি পথ খোলার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গাজার উত্তরাঞ্চলের ইরেজ গেট সাময়িকভাবে খুলে দেয়া হবে। পাশাপাশি আশদোদ বন্দরও খুলে দেয়া হবে। এ ছাড়া কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে জর্ডান থেকে আরও বেশি ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ফোনালাপে করিডরগুলো পুনরায় খোলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন বাইডেন। মূলত ইসরায়েল সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বাইডেন বলেছেন, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিন, না হয় গাজা সম্পর্কে মার্কিন নীতি পরিবর্তন হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার (০১ এপ্রিল) গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) ত্রাণকর্মীদের ওপর ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ যায় সাতজনের। এরপর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল। ঘটনার তদন্ত করে দুই জ্যৈষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে দেশটি।