প্রবাস মেলা ডেস্ক: ২৬ মার্চ ২০২২, শনিবার যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল চট্টগ্রাম সমিতি কানাডা ইন্ক। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দুই পর্বে সাজানো ছিল অনুষ্ঠানটি। বিপুল উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস মিয়া।
আলোচনা পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ত্রিশ লক্ষ শহীদদের সম্মানে সকলে দাঁড়িয়ে ১ মিনিটের নীরবতা পালন করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জয়নাল আবেদীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহজাহান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জয়নাল আবেদীন তার মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান। আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সমিতি কানাডার যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ হাসান, সদস্য সচিব মজুর চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ হাসান, হাসান তারেক, যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম, শিক্ষক সৈয়দ মো: ফখরুদ্দিন, বিশিষ্ট সংগঠক আনোয়রুল হাকিম ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কানাডার সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন।

বক্তাদের বক্তব্যে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য ফুটে উঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চট্টগ্রাম একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। এই চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হয় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, এই চট্টলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যে ৬ দফা ঘোষণা করেন তারই ভিত্তিতে হাজার বৎসরের পরাধীন বাঙ্গালী জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই বীর চট্টলার মাটিতেই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়।

আলোচনা সভার সমাপনী বক্তব্যে সভার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তাঁর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সেইসময়ের স্মৃতির বর্ণনা দেন। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মত পিনপতন নীরবতায় উনার বক্তব্য শুনতে থাকেন। তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং সবাইকে ১০০ ডলার দিয়ে আজীবন সদস্যপদ গ্রহণের জন্যে অনুরোধ করেন।
দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক পর্বে সংগঠনের সদস্য সাংস্কৃতিক কর্মী তানভি হকের উপস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে শিল্পীরা দেশাত্ববোধক ও মুক্তিযুদ্ধের উপর গান পরিবশন করেন। সঙ্গীত পরিবেশনায় ও আবৃত্তিতে ছিলেন তানভি হক, নাজমা বেগম, নাঈমা ফেরদৌসী ও নাহিদ আকতার। অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তির পর সকলকে নৈশ ভোজে আপ্যায়িত করা হয়।