প্রবাস মেলা ডেস্ক: সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লাভ’ ছবির মধ্য দিয়ে ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন অভিনেত্রী নাসরিন আক্তার। নৃত্য সহশিল্পী হিসেবে যাত্রাটা শুরু হলেও দেশের প্রথম সারির অনেক নায়কের বিপরীতেও অভিনয় করেছেন তিনি। পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়েছে তার। তবে এখন তাকে সিনেমা অঙ্গণে খুব একটা দেখা যায় না।
গণমাধ্যমকে নাসরিন জানাস, আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। একদম কাজ নেই। ঘরে থাকতে থাকতে ভুলে যাচ্ছি আমি একজন শিল্পী। দু-এক বছর এইভাবে চললে দেখা যাবে নিজেকে আর শিল্পী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবো না। কেউ ডাকলেও আগ্রহ থাকবে কিনা জানি না। দেড় বছর আগে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমায় অভিনয় করেছি। এরপর আর কাজ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সঙ্গেই এখন সময় কাটছে। দীর্ঘদিন অভিনয় করি না। তবে চলচ্চিত্রের খবর ঠিকই রাখি। টেলিভিশন দেখে, পত্রিকা পড়ে জানার চেষ্টা করি। বর্তমান সময়ে সিনেমার নাজুক অবস্থা চলছে। এখান থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে সবাই মিলে যদি এগিয়ে আসে, সবাই সবার জায়গায় সৎ থাকে তাহলে আবার ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতেও পারে। টাকা-পয়সাটাই বড় কথা না। এটা একটা শিল্পের জায়গা। জায়গাটা ধরে রাখা উচিত। এটা আমাদের ঐতিহ্য। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা অন্যান্য দেশের লোকজন শুনবে। ধিক্কার দিবে। হাস্যকর হবে বিষয়টা। শুধু শিল্পীদেরই না। সমস্ত নাগরিকেরই দায়িত্ব আছে চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবার। যেহেতু সিনেমা দেশের সম্পদ। আমরা কাজ না করি। অন্তত পক্ষে আমাদের চলচ্চিত্র বেঁচে থাক আজীবন। মানুষ যাতে বলতে না পারে, সিনেমা তো শেষ! শুনতেও খুব কষ্ট লাগে এসব। এমন না যে চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো হলেই কাজ করবো। নতুনরা অসুক। ভালো করুক। নতুন যারা আসবে ভালোভাবে মাথা উঁচু করে কাজ করুক। মানুষজন যদি বলে, বাংলাদশের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ভালো হচ্ছে। এটাই পাওয়া ও গৌরবের। যে কষ্টটা আছে সেটা থাকবে না।