নিরব আহমেদ, গ্রীস থেকে: ছলচাতুরী আর বঞ্চনা সয়ে সয়ে, শর্ত ভঙ্গের বাহারি কৌশলে অবদমিত হয়ে, ন্যায্য অধিকার পাবার প্রতিক্ষায় থেকে, সৃষ্ট প্রতিবাদী চেতনা ও বিক্ষোভের জ্বলন্ত প্রকাশ `বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি’। আজ অমর একুশে, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করা সকল শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। এরই ধারাবাহিকতায় দিনের প্রথম প্রহরে গ্রিসে নিযুক্ত মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিতিতে দূতাবাসের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
স্থানীয় দূতাবাস আয়োজন করেছিলেন অনলাইন ভার্চুয়াল জুম মিটিং। আয়োজনের মধ্য মণি মান্যবর রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ এর সভাপতিত্বে ও দূতাবাস প্রধান সুজন দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ রায়, কাউন্সিলর খালেদ আহমেদ সহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা।
করোনা পরিস্থিতে প্রবাসীদের স্বার্থে, প্রবাসীদের নিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনলাইন জুম মিটিংয়ের আয়োজন করেছেন ‘আমরা গর্ববোধ করি এই ভেবে যে, অমর একুশের চেতনা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা-ভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের সকল ভাষা-ভাষীর প্রেরণার উৎস। আজকের এই গুরুত্ব পূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে আরো যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীস এর সম্মানিত সভাপতি জনাব হাজি আব্দুল কুদ্দুস, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ হাসান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গ্রীস শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব সামাদ মাতুব্বর, সাধারণ সম্পাদক জনাব বাবুল হাওলাদার, নান্নু খালাসী, রফিক হাওলাদার, মোখলেসুর রহমান সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ যুবলীগ গ্রীস শাখার যুগ্ম-আহব্বায়ক রাসেল মিয়া, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুমিন খান, সামাজিক, রাজনীতি, সাংস্কৃতিক অঙ্গণের সকল নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে গুরুপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন সকল প্রবাসী সাংবাদিকগণ। উঁস্থান সেজেছে ছোট্ট সোনামনিদের মাঝে কবিতা আবৃতি, ছবি অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। করোনার কারণে সরাসরি অনুষ্ঠানের আয়োজন না করতে পেরে রাতসরদূত দুঃখ প্রকাশ করে আশা ব্যক্ত করেছেন, খুব শীঘ্রই আমরা আবারো একত্রিত হব প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করব।
মাতৃভাষায় কথা বলার, লেখার অধিকার আদায়ের জন্য ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিরঋণী করে রেখেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূতের সমাপনী বক্তৃতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি করা হয়।