শামসুল আলম লিটন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে: জাতিসংঘ ঘোষিত ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ দ্য ভিকটিমস অফ এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে সাউথ এশিয়ান পলিসি ইনিশিয়েটিভের আহ্বানে যুক্তরাজ্যের ১৭টি মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগে বৃটিশ পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, গুম একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। ‘ছেলেহারা মায়ের ডাক-ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক’ শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসে ৩০ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার লন্ডনে হাউস অফ কমেন্সের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশে গুম হওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দেশে দেশে ফ্যাসিবাদ এভাবেই গুম-খুনের মাধ্যমে ভিন্নমতকে দমন করে রাখতে চায়। ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেই মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আমার দেশ ইউকে’র নির্বাহী সম্পাদক অলিউল্লাহ নোমানের সভাপতিত্বে ও সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটনের পরিচালনায় সমাবেশে গুমের শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মামুন, ক্যাপ্টেন ওয়াহিদ উন নবী, মেজর (অবঃ) এ কে এম জাকির হোসেন বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে কিভাবে বাংলাদেশে ভিন্নমতের লোকদের ধরে নিয়ে গুম করে এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের কিভাবে নির্মম নির্যাতন করা হয়।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাস্টিস ফর রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের যুক্তরাজ্য সভাপতি ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি প্রফেসর ড. শেখ রামজি, সলিডারিটি ফর হিউম্যান রাইটস ইউকে’র সভাপতি প্রফেসর আবদুল কাদির সালেহ, সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকে’র আহ্বায়ক এম এ মালিক, বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, সোসাইটি ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস-এর সভাপতি ব্যারিস্টার ইকবাল হোসাইন, সাবেক যুব নেতা আশিকুর রহমান আশিক, মানবাধিকার সংগঠন নিরাপদ বাংলাদেশ চাই-এর সভাপতি মুসলিম খান, ফাইট ফর রাইটের সভাপতি রায়হান উদ্দিন, জিন্নাত ইব্রাহিম তানিম, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল্লাহ আল মুমিন, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, মানবাধিকার কর্মী আসাদুল হক, পিচ ফর বাংলাদেশ’র ডলার বিশ্বাস ও মাহিন খান, মোর্শেদ আহমদ খান, আলী হোসেন, এডভোকেট আমির হোসেন সরকার, আরিফ আহমদ, মির্জা এনামুল হক, বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, মো: আমিনুল ইসলাম সফর, মঞ্জুর আহসান পল্টু প্রমুখ।

প্রফেসর ড. শেখ রামজি বলেন, দেশে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলোকে ব্যবহার করে ভিন্নমতের লোকদের গুম করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন ও গুমের ঘটনা গুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন, এমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সেখানে ঘটছে নির্বিচারে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদকে মোকাবিলা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
ব্যারিস্টার ইকবাল হোসেন বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক এই দিবসটিতে ফ্যাসিবাদী শাসকদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে গুমের মত মানবতা বিরোধী অপরাধগুলো এক সময় বিচারের আওতায় আসবে। এই অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের একদিন আইনের মোকাবেলা করে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
মাহিদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে বের করতে হলে লড়াই করতে হবে। এম এ মালিক বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে গুমের শিকার মানুষকে বের করে আনতে হবে।
সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন বলেন, গুমের মত মানবতা বিরোধী অপরাধ বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য ফ্যাসিবাদী সরকারের দেশ গুলোতেও ঘটছে। দেশে দেশে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ সংগ্রামকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি মানবাধিকার গ্রুপগুলোতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুম, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী সকল অপরাধ বিচারের আওতায় আনতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান আয়োজক সংস্থা সাফি’র পক্ষ থেকে সকল মানবাধিকার গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান।
লন্ডন ভিত্তিক ১৭টি মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকে, সোসাইটি ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস, সলিডারিটি ফর হিউম্যান রাইটস ইউকে, পিস ফর বাংলাদেশ, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই (এনবিসি) ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যানিটি ক্লাব ইউরো বিডি, জাস্টিস ফর বাংলাদেশ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম ইউকে, রাইট কনসার্ন, রাইটস মুভমেন্ট ইউকে, স্ট্যান্ড ফর বাংলাদেশ, সাপোর্ট রাইটস ইউকে, ইউনিভার্সাল ভয়েস ফর জাস্টিস, ভয়েস ফর জাস্টিস, হোয়াইট পিজিয়ন ইন্টারন্যাশনালের কর্মী ও সংগঠকরা এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশ নেন।