শরীফ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুয়েত থেকে: বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়েতে ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২২, সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২’ উদ্যাপিত হয়েছে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো: আশিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন, প্রত্যুষে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক সদস্যদের উপস্থিতিতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। পরবর্তীতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে দূতাবাসের অভ্যন্তরে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”-২০২২ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’র বাণীসমূহ পাঠ করেন যথাক্রমে মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কাউন্সেলর(শ্রম), মোঃ ইকবাল আখতার, প্রথম সচিব(পাসপোর্ট ও ভিসা), নিয়াজ মোর্শেদ, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান এবং মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, সোনালী ব্যাংক প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে দিবসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রামান্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহন করেন। তারা তাদের বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের আগে ও পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো: আশিকুজ্জামান তার বক্তব্যের সাথে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে গণআন্দোলন গঠনে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন যা বাংলা ভাষাকে বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে পরিচিতি এনে দেয়। এসময় মান্যবর রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ১৯৯৯ সালে কানাডায় বসবাসরত কিছু বাংলাদেশী প্রবাসীর প্রাথমিক প্রচেষ্টা এবং পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২১শে ফেব্রুয়ারী সারা বিশ্বে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি সকলকে ভাষা আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে দেশপ্রেম ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়তে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। মান্যবর রাষ্ট্রদূত দেশের কল্যাণে সকল বাংলাদেশী নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপশি সকলকে কুয়েতে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশী নাগরিকদের কুয়েতের স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী সকলকে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান শেষে মধাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মান্যবর রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো: জিহোন।